ইঞ্জিন সংকটে কমেছে মালবাহী ট্রেন

সংগৃহীত ছবি
রেলপথে পণ্য পরিবহনের খরচ ও সময়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে রেলওয়ের। কিন্তু ইঞ্জিনের সংকটে এসব পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যাই কমে গেছে। নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো বহরে যুক্ত হতে অপেক্ষা করতে হবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত।
আজ সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থাপিত মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৯ সালে ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা গেলে কনটেইনার, জ্বালানি, খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে রেলওয়ের রাজস্ব আয় বাড়বে।
বৈঠকে জানানো হয়, নতুন করে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদিত হয়েছে। এর বাইরে আগে অনুমোদিত আরও ৩০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের গ্রিন রেলওয়ে প্রকল্পের আওতায় আরও ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
রেলওয়ের পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় কনটেইনার আনা-নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহন করা হয়। তবে ইঞ্জিনের স্বল্পতায় এসব পরিবহন কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো যাচ্ছে না। অথচ পণ্য পরিবহন বাড়াতে পারলে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সড়কপথের ওপর চাপ কমানোরও সুযোগ রয়েছে।
এদিকে মোংলা বন্দর থেকে রেলপথে পণ্য পরিবহনও সীমিত পরিসরে চলছে। বর্তমানে বন্দরটি থেকে টাঙ্গাইলের সয়দাবাদ ও জয়পুরহাটে মোলাসেস বা চিটাগুড় পরিবহন করা হচ্ছে। তবে মোংলা বন্দর থেকে অন্য কোনো পণ্য পরিবহনের চাহিদা বর্তমানে রেলওয়ের কাছে নেই বলে বৈঠকে জানানো হয়।
মোংলা-বেনাপোল রুটে বর্তমানে ৯৫ ও ৯৬ নম্বর ট্রেন চলাচল করছে। এখন মোংলা থেকে ঢাকায় ট্রেন চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে পর্যায়ক্রমে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত হবে। ইতিমধ্যে ১৮টি কোচ এসেছে। এসব কোচ পাওয়া সাপেক্ষে মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৈঠকে অনলাইনে টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে সহজ ডটকম। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে রেলওয়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তার আগেই অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন ভেন্ডর নিয়োগে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে কমিটিকে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়া রেলওয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও অপারেটিং রেশিও পর্যালোচনা করা হয় বৈঠকে। রেলওয়ের মোট জমি, ব্যবহৃত ও ইজারাকৃত জমি, ইজারা থেকে আয়, অবৈধ দখল এবং ভূমিসংক্রান্ত মামলার তথ্যও উপস্থাপন করা হয়। রেলওয়ের জমি ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
রেলওয়েকে লোকসান থেকে ধীরে ধীরে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর, লেভেল ক্রসিংয়ে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আইনজীবী নিয়োগ এবং আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। এ ছাড়া ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বেনাপোল থেকে খুলনা পর্যন্ত সকালে কমিউটার ট্রেন চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার এমপির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



