‘সফল সরকার’ পরিচালনায় দলের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
‘সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে’ উল্লেখ করে ‘একটি সফল সরকার’ পরিচালনায় দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রবিবার বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দলের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বললেন, ‘আমাদের সামনে প্রথমত অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ও অপেক্ষা করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন সময়ে আমাদের হেসে-খেলে চলে গেলে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কিন্তু আমাদেরই উত্তরাধিকার। কাজেই আসুন, শহীদ জিয়া যেভাবে দেশকে গঠন করতে চেয়েছিলেন, যেভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন- আমরা সে ধারাই চেষ্টা করছি দেশকে আজকে পরিচালনা করতে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে ধীরে ধীরে প্রত্যেকটি সেক্টরকে সামনে এগিয়ে নিয়ে দেশকে স্বাবলম্বী করতে চেয়েছিলেন; যে ম্যানিফেস্টোর পক্ষে ১২ তারিখের নির্বাচনে দেশের মানুষ আমাদের রায় দিয়েছে, সেই ম্যানিফেস্টোর মধ্যে শহীদ জিয়ার প্রত্যেকটি পথনির্দেশিকা আমরা গ্রহণ করেছি।
এ সময় সরকারের সফলতার জন্য দলের নেতাকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘সরকার সরকারের কাজ করবেন। তবে সরকার তখনই সফল হতে পারবে, যখন দলের লোকজন সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমকে সহযোগিতা করতে থাকবে। আমাদের সংসদে যে ২১৪ জন এমপি, আমিসহ যে ৫০ জন ক্যাবিনেট সদস্য আছেন, আমরা শুধু পরিশ্রম করলেই কিন্তু কার্যক্রমগুলি সফল হবে না। আপনাদের সবার সহায়তা প্রয়োজন হবে। যেভাবে নির্বাচনে সবার সার্বিক সহযোগিতায় জয় এসেছে, ঠিক একইভাবে সরকারের সফলতার জন্য সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা রাখতে হবে। জিতিয়ে আনার পরেই কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যায়নি। বরং আমাদের সে অক্লান্ত পরিশ্রমকে এখন আবারো কন্টিনিউ করতে হবে। জনগণের দৃষ্টিতে সফল হতে হলে সব নেতাকর্মীকে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে মাঠে-ময়দানে গিয়ে কাজ করতে হবে।’
সরকার প্রধান বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার একটি রাজনৈতিক সরকার অর্থাৎ একটি রাজনৈতিক দল যার নীতি আছে, আদর্শ আছে, পরিকল্পনা বা ম্যানিফেস্টোও আছে। যে পরিকল্পনা বা ম্যানিফেস্টো আমরা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরেছিলাম ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে; মানুষ এই ম্যানিফেস্টো বা পরিকল্পনা দেখেছে, শুনেছে, বুঝেছে এবং সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য ১২ তারিখে তারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে ধানের শীষকে সেই দায়িত্ব দিয়েছেন। এই ম্যানিফেস্টোটি বা পরিকল্পনাটি এখন শুধু বিএনপির নয়, বরং ৫২ শতাংশ মানুষ যারা ভোটে অংশগ্রহণ করেছিল তাদের। রাজনৈতিক দলের সরকার হিসেবে এটি আমাদের পালন করতে হবে, এটি আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে।’
সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের দেশে কীভাবে শিল্পের প্রসার আবার ঘটানো যায়, কীভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়, কীভাবে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারি যেমন বন্ধ কল-কারখানাগুলো চালু করাসহ যে পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি; ঠিক একইভাবে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি কীভাবে নতুন নতুন ডাইভার্সিফিকেশন, কী কী ইন্ডাস্ট্রি আমরা এ দেশে গড়ে তুলতে পারি। সেই পরিকল্পনাগুলোকে আমরা আমাদের ম্যানিফেস্টোর মধ্যে রেখেছি।’
সবার সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনি হয়তো এমপি না, মন্ত্রী না বা সরকারের সঙ্গে রিলেটেড না। আপনি হয়তো উপজেলা চেয়ারম্যানও নন, ইউনিয়ন পরিষদেরও চেয়ারম্যান নন বা মেম্বারও নন। আপনি হয়তো একজন রাজনীতিক। একজন পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিস্ট হলে পলিটিক্স করার মাধ্যমেই আপনি দলকে সঠিক রাখবেন এবং দলকে সঠিক রাখার মাধ্যমেই আপনি সরকারকে সহযোগিতা করতে সক্ষম হবেন।’
সরকারপ্রধান জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন যে, মানুষ শহীদ জিয়া ও বাংলাদেশ এই দুটিকে একসঙ্গে বুঝতো। কঠোর পরিশ্রম, সততার মাধ্যমে দেশে অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমানের সেই পথ অনুসরণ করতে হবে আমাদের।
দেশে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। বিষয়গুলো কীভাবে শিশুদের মধ্যে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন। অনুষ্ঠানের শুরুতে দলের প্রতিষ্ঠাতার স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।








