উড্ডয়নের পর দরজা খোলায় ঢাকায় জরুরি অবতরণ ভারতীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের, রোগীর মৃত্যু

জরুরি অবতরণের পর শাহজালাল বিমানবন্দরে বিচক্র্যাফট কিং এয়ার সি৯০এ- মডেলের উড়োজাহাজটি। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতায় যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। রবিবার দুপুরে অবতরণের পর উড়োজাহাজে থাকা অসুস্থ ভারতীয় নারী অঞ্জনা ভৌমিককে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিমানবন্দরের সিনিয়র অফিসার (প্রশাসন) মো. রিয়াজ উদ্দিন আগামীর সময়কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানালেন, ভারতের আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর থেকে মেডিকেল ইভাকুয়েশন (মেডেভাক) মিশনে নিয়োজিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি কলকাতার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বিচক্র্যাফট কিং এয়ার সি৯০এ- মডেলের উড়োজাহাজটির নিবন্ধন নম্বর ভিটি-এইচওয়াইএ। ভারতীয় সময় দুপুর ১টা ৫ মিনিটে যাত্রা শুরুর সময় উড়োজাহাজটিতে দুই পাইলট, একজন রোগী, একজন চিকিৎসক ও একজন প্যারামেডিকসহ মোট সাতজন আরোহী ছিলেন।
উড়োজাহাজটি ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছালে কেবিনের চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেয়। এতে উড়োজাহাজের প্রধান দরজাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আংশিকভাবে খুলে যায়। এ পরিস্থিতিতে যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং ঢাকায় জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি অবতরণের আগেই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী যান, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়। পরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে উড়োজাহাজটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
অবতরণের পর উড়োজাহাজের ক্রুসহ অন্য আরোহীরা নিরাপদে ছিলেন। তবে অসুস্থ রোগী অঞ্জনা ভৌমিককে দ্রুত রাজধানীর কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উড়োজাহাজটির যাত্রীতালিকা অনুযায়ী, অঞ্জনা ভৌমিক ভারতীয় নাগরিক। তার সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান, প্যারামেডিক আজিম খান এবং দুই সঙ্গী সান্তা ভৌমিক ও দীপ জ্যোতি মিশ্র। উড়োজাহাজটির পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন পুণ্য অনুপ এবং সহকারী পাইলট ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি পরিচালনা করছিল ভারতের এসকেবি ইনফ্রাকন প্রাইভেট লিমিটেড।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ক্রু ও অন্য আরোহীদের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না থাকলেও মানবিক বিবেচনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে তাদের সহায়তা দেওয়া হয়। ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হয়। দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, সদস্য (পরিচালনা), সদস্য (এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রমে সমন্বয় করেন।




