‘ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না, মাঝেমধ্যে গ্রামে চলে যেতে ইচ্ছা করে’

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ‘দক্ষিণের জানালা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকাকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দূষণ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ক্রমবর্ধমান নাগরিক সংকটের কারণে মাঝেমধ্যে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে বসবাস করার ইচ্ছা জাগে।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ‘দক্ষিণের জানালা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেছেন, ঘর থেকে বের হলেই দূষিত বাতাসের মুখোমুখি হতে হয়। রাজধানীর পরিবেশগত অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক সময় শহর ছেড়ে গ্রামের শান্ত পরিবেশে ফিরে যাওয়ার কথা মনে হয়।
ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেছেন, ১৯৬৩ সালে ঢাকা কলেজে অধ্যয়নকালে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি এতটাই দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত যে সেখানে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ভাষ্য, নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় কার্যকর উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেছেন, শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই রাজধানীর সমস্যার সমাধান হবে না। নগর পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণে যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের আরও পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ঢাকা উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সাধারণ মানুষ কতটা সুফল পাচ্ছেন, তা মূল্যায়ন করা জরুরি।
তিনি জানান, বিপুল অর্থ ব্যয়ে ড্রেন নির্মাণ হলেও অনেক এলাকায় কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়াকে তিনি রাজধানীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেন।
‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, কেবল আলোচনা বা আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে ঢাকাকে আবারও বসবাসের উপযোগী নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম, পরিবেশ ও পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার এবং নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খানসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।




