স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সরকার দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন নীতিতে বিশ্বাসী

সংগৃহীত ছবি
পুলিশ বাহিনীর নৈতিক মনোবল বৃদ্ধি এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে দেশব্যাপী আলোচিত তিনটি ঘটনায় বিশেষ অবদানের জন্য ১৫ পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করেছে সরকার। পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তিনজন নৌপুলিশকে আইজি ব্যাজ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব পুরস্কার তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বললেন, বর্তমান সরকার ‘শিষ্টের পালন ও দুষ্টের দমন’ এবং ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতিতে বিশ্বাসী। ভালো কাজের স্বীকৃতি ও মন্দ কাজের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে পুলিশকে আরও সেবামুখী ও জনবান্ধব করে তোলা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভাষ্য, অতীতে সচরাচর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হতো না। সাধারণত রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স বা পুলিশ সদর দপ্তরের বার্ষিক অনুষ্ঠানে পদক ও ব্যাজ দেওয়া হতো। তবে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিকভাবে উৎসাহিত করতে এবার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তার মতে, গত ৫ আগস্টের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার সফল। বর্তমানে পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনায় দেশে অপরাধের হার কমেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। তারা মাঠপর্যায়ে তদন্ত ছাড়াই অনেক ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরি করে। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং প্রয়োজন হলে তা যাচাই-বাছাই করা হয়।
মামলা তদন্তে বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানালেন, বর্তমান বাজেট বাস্তবতায় তদন্ত, পোস্টমর্টেম ও অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ আরও বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিবেচনা করছে।
পলাতক বা শৃঙ্খলাভঙ্গকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর কথা, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, মোট নয়জন কর্মকর্তা পুরস্কৃত হয়েছেন রাজধানীর পল্লবী থানার আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তে ভূমিকা রাখার জন্য। দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার, ডিএনএ পরীক্ষা, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়তার স্বীকৃতি হিসেবে পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন, এসআই অহিদুজ্জামানসহ মিরপুর জোনের আভিযানিক দলের সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী একটি বাসে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিলে ঝুঁকি নিয়ে অন্তত ৫০ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখার জন্য তিনজন নৌ পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাদারীপুরের চর জানাজাত ও কলাতলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মোহাম্মদ আবুজার গিফারী।
এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক কিশোরীর অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্ত এবং মাত্র এক দিনের মধ্যে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে চার আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পিবিআই মুন্সীগঞ্জের এসআই রনি দেবনাথসহ তিনজন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




