বোর্ডিং পাস নিয়েও ফ্লাইটে ওঠেননি ৬৫ যাত্রী, ১৫ জনের ভিসা জাল

ফাইল ছবি
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়াগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের ৬৫ যাত্রী চেক-ইন করে বোর্ডিং পাস নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত বিমানে ওঠেননি। এর মধ্যে ১৫ যাত্রীর ভিসা জাল ধরা পড়ার পর তাদের আটকে দেয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
গত শনিবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটের বিজি-৩৮৬ ফ্লাইটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। পরে বিমানের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি নির্ধারিত সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ওই ৬৫ যাত্রী ছাড়াই ২১২ যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ইমিগ্রেশন পুলিশ জাল ই-ভিসা শনাক্ত করার পর ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাকি ৫০ যাত্রী আর বোর্ডিং গেট পর্যন্ত যাননি এবং তারা দ্রুত বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন। তবে চেক-ইন সম্পন্ন করার পর বিমানবন্দর এরিয়া থেকে তারা কীভাবে উধাও হলেন, সে বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
ঘটনা প্রসঙ্গে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানান, ফ্লাইটটিতে মোট ২৭৭ যাত্রীর ভ্রমণের কথা ছিল। এর মধ্যে জাল ভিসা ও কাগজপত্র পাওয়ায় ১৫ জনকে আটকে দেয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ এবং শেষ পর্যন্ত ২১২ যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি রওয়ানা করে। বাকিরা কীভাবে উধাও হয়েছে তা তাদের জানা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিমানবন্দর সূত্রের দাবি, ইমিগ্রেশন পুলিশের জাল ই-ভিসা শনাক্ত করার সক্ষমতা থাকলেও যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই এয়ারলাইন্সের চেক-ইন কাউন্টার থেকে প্রথম দফায় ভিসাগুলোকে বৈধ ধরে নিয়ে বোর্ডিং পাস ইস্যু করা হয়। এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, সন্দেহভাজন জাল ভিসাধারীরা কীভাবে চেক-ইনসহ একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ও যাচাই পেরিয়ে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হলেন।
জানা গেছে, ফ্লাইটে উঠতে না পারা ওই ৬৫ যাত্রীই মালয়েশিয়ার পর্যটক বা ট্যুরিস্ট ভিসায় ভ্রমণ করছিলেন। তবে একটি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় তারা মূলত ট্যুরিস্ট ভিসার আড়ালে মালয়েশিয়ায় গিয়ে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।




