শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়তে কার্যকর জাতিসংঘের বিকল্প নেই : শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গঠনে একটি কার্যকর জাতিসংঘ ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংহতি অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ রাজধানীর ক্রাউন প্লাজা ঢাকায় ‘জোনটা ইন্টারন্যাশনাল, ডিস্ট্রিক্ট ২৫’ এবং বাংলাদেশের ‘জোনটা ক্লাবসমূহ’ আয়োজিত জাতিসংঘ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বহুপাক্ষিকতাকে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুষ্ঠানে তিনি জাতিসংঘের উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার— এই তিনটি মূল স্তম্ভের প্রতি বাংলাদেশের নতুন অঙ্গীকারের কথা জোর দিয়ে তুলে ধরেন। শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দেশের দীর্ঘস্থায়ী অবদানের বিষয়টিও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে চলমান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ গঠনমূলক অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংলাপ উৎসাহিত করছে। একই সঙ্গে দেশটি বিশ্বমঞ্চে ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে কাজ করে যাচ্ছে।
টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০৩০ এজেন্ডা’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে সফল উত্তরণের জন্য বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সহায়তা, সাশ্রয়ী অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বাজারে নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারী সদস্যদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ এবং সমান সুযোগ পাওয়ার পথে বিদ্যমান সব বাধা দূর করার তাগিদ দেন। নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে সম্প্রতি শুরু হওয়া ‘ঢাকা ডায়ালগ’-এর মতো উদ্যোগের গুরুত্বের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রত্যাবাসন ইস্যুতে জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের তাদের পৈতৃক ভিটায় দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হলে জাতিসংঘকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা। এ ছাড়া কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্যবৃন্দ, জোনটা ইন্টরন্যাশনালের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, আজ ২৪ অক্টোবর, জাতিসংঘ দিবস। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ এবার ৮১তম বছরে পদার্পণ করেছে।



