গ্রাউন্ড সার্ভিস আধুনিকায়নে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে ইউএস-বাংলা

উড়োজাহাজের বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা বাড়ানো, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে প্রায় ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১২ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪৬টি নতুন গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্ট যুক্ত করার পাশাপাশি ৮০টি বৈদ্যুতিক যান (ইলেকট্রিক ভেহিকেল) পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫৯০টি গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্ট রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এর সঙ্গে আরও ১৪৬টি নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজ ঠেলা ও টানার ট্রাক্টর, ব্যাগেজ বেল্ট লোডার, ব্যাগেজ ট্রাক্টর, যাত্রী ওঠানামার সিঁড়ি, গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট, এয়ার স্টার্ট ইউনিট, ক্যাটারিং ট্রাক এবং পানি ও ল্যাভাটরি সার্ভিস ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, একটি ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা ও দক্ষ পরিচালনা শুধু উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করে না। এ জন্য আধুনিক গ্রাউন্ড ইকুইপমেন্ট, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেটে আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড সাপোর্ট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে ২৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ২১টি বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ তালিকায় আরও প্রায় ১৬টি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গ্রাউন্ড অপারেশনে পরিবেশবান্ধব যানবাহন ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। সরকারের ইলেকট্রিক ভেহিকেল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮০টি বৈদ্যুতিক যান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব যানবাহনের জন্য চার্জিং অবকাঠামো স্থাপনের কাজ চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতিমধ্যে গ্রাউন্ড অপারেশনে বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারের জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে), লস অ্যাঞ্জেলেস, মায়ামি ও শিকাগো বিমানবন্দর; ইউরোপের আমস্টারডাম, ফ্রাঙ্কফুর্ট ও লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর; মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, দোহা ও আবুধাবি বিমানবন্দর। এ ছাড়া এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন বিমানবন্দরেও এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে উঠেছে।
ইউএস-বাংলার মতে, প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে বিমানবন্দরের বিভিন্ন গ্রাউন্ড অপারেশনে বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড অপারেশন আরও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ, বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এসব উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিনিয়োগ ও সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।



