নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিলের প্রস্তাব

ছবি: আগামীর সময়
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ২৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি)। একই সঙ্গে তিন কিলোওয়াট পর্যন্ত আবাসিক ও কৃষি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক নীতিনির্ধারণী সংলাপে সাত দফা নীতিগত রোডম্যাপ তুলে ধরে বিডব্লিউজিইডি। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সংলাপে সংসদ সদস্য, জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বললেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয় নয়। এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও উন্নয়ন সক্ষমতার সঙ্গেও জড়িত। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে এগোতে হবে।’
সংলাপে উপস্থাপিত বিডব্লিউজিইডির এক গবেষণায় বলা হয়, দেশে প্রতি ১ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করলে বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকার জ্বালানি তেল আমদানি সাশ্রয় সম্ভব। একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ২০ বছরের আয়ুষ্কালে এর মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
সংগঠনটির প্রতিনিধি ও ক্লিন-এর প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বললেন, ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে সরকারি সহায়তা ব্যয় নয়, বরং এটি এমন একটি বিনিয়োগ। যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কমায় এবং দেশের জ্বালানি স্বাধীনতা শক্তিশালী করে।’
বিডব্লিউজিইডির প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে গঠিত বিশেষ তহবিল থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ সুদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে ঋণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত আবাসিক ও কৃষি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য প্রতি কিলোওয়াটে ২৫ হাজার টাকা সরাসরি ভর্তুকি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বছরে প্রায় ২১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা সরকারকে সরাসরি ভর্তুকি হিসেবে দিতে হবে। নারী, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ প্রণোদনারও প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংগঠনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেই এসআরও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে, যার মাধ্যমে কর–সুবিধা মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তিভিত্তিক বড় প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। তাদের মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌর সেচ ও অন্যান্য বিকেন্দ্রীভূত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উদ্যোগেও সমান কর–সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা ১৪ হাজার ১৬৬ একর অব্যবহৃত জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংগঠনটির দাবি, এতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই প্রায় ৬ হাজার মেগাওয়াট সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
বিডব্লিউজিইডি আরও সুপারিশ করেছে, দেশে ‘গ্রিন ডিস্ট্রিক্ট’ কর্মসূচি চালু, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে ১০ লাখ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন অনুমোদিত সব বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে ব্যাটারি সংরক্ষণব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৬৭৯ মেগাওয়াট। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এ সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা।
বিডব্লিউজিইডির মতে, এ লক্ষ্য অর্জনে শুধু বড় বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করলে হবে না; পরিবার, কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্থানীয় সরকারকেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে যুক্ত করতে হবে।
সংলাপের প্যানেল আলোচনায় খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, দীপেন দেওয়ান, কামরুজ্জামান কামরুল, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, মাহবুবুর রহমান বেলাল ও সুলতানা জেসমিন জুঁই অংশ নেন।




