ছয় মাসে খাদ্যে ছয় মন্ত্রী-সচিব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিএনপির ছয় মাসের শাসনামলে খাদ্য মন্ত্রণালয় পেয়েছে ছয়জন মন্ত্রী ও সচিব। এর মধ্যে দুজন মন্ত্রী, দুজন প্রতিমন্ত্রী ও দুজন সচিব। এ সময়ের মধ্যে তিনজন মহাপরিচালকের (ডিজি) দেখাও পেয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশ্ন— কবে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর স্থিতিশীল হবে। নাকি কিছুদিন পর ফের নতুন কেউ আসবেন?
নতুন সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান (টেকনোক্র্যাট কোটায়) কুমিল্লার বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (হাজি ইয়াছিন)। আর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। কিন্তু মাত্র ১৬ দিনের মাথায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর হারান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বহাল রাখা হয় তাকে। এর ২০ দিন পর খাদ্যমন্ত্রীর পদ হারান আমিন উর রশীদও। তাকে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর পদে বহাল রাখা হয়। তবে কী কারণে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনকে খাদ্য মন্ত্রণালয় ছাড়তে হলো— সেটা আজও অনেকের প্রশ্ন।
এদিকে ‘ডিসি বারী’ খ্যাত জয়পুরহাটের জনপ্রতিনিধি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারীকে গত ২৫ মার্চ খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। যদিও প্রতিমন্ত্রী খাদ্য মন্ত্রণালয়ে বসার চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে বসতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এদিকে মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী না থাকায় ধান-চাল কেনাকাটা, আমদানি-রপ্তানি ও মূল্য নির্ধারণকারী কর্তৃপক্ষ ‘খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটি (এফপিএমসি)’ পুনর্গঠন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করা হয়।
সর্বশেষ গত ২৩ আগস্ট খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রীতা। মানিকগঞ্জের এ সংসদ সদস্য গতকাল রবিবারই প্রথম অফিস করেছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ে। রীতি অনুযায়ী প্রথম দিনই খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরগুলোর পদস্থ কর্মকর্তারা শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। সেখানে আফরোজা খানম বলেছেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতা বাড়িয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে। সরকারি খাদ্য কর্মসূচির সুফল যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে, তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কল্যাণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষতা ও সেবার মানও বাড়াতে হবে।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই খাদ্য সচিব ছিলেন ফিরোজ সরকার। বিসিএস ১৭তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা ২২ এপ্রিল পর্যন্ত এ পদে ছিলেন। তাকে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে একই পদে বদলি করা হয়। ওই দিনই খাদ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। এখনো তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ে খাদ্য অধিদপ্তরেও তিনজন কর্মকর্তা ডিজির দায়িত্বে ছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার ১০ দিনের মাথায় তাকে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) একই পদে বদলি করা হয়। এরপর ডিজির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম কামরুজ্জামান। তিনি ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ডিজির দায়িত্ব পান শাহ আবদুল আলীম খান। মাত্র ১০ দিন দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার জায়গায় গত ২৮ এপ্রিল বর্তমান ডিজি মু. জসীম উদ্দিন খান নিয়োগ পান।






