যদি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকায় হাতি নেই, কিন্তু হাতিরঝিল আছে। ধানক্ষেত নেই, কিন্তু ধানমন্ডি আছে। সেই হিসেবে যদি ঢাকায় একটিও পাটগাছ না থাকে, তবে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট থাকতেই পারে। যুক্তি শেষ।
গবেষণার সুবিধার জন্য একটি প্রস্তাব দেওয়া যেতে পারে। যেহেতু ঢাকায় পাট নেই, তাই গবেষকরাও কল্পনার পাট নিয়েই গবেষণা করবেন। যেমন: ‘কল্পিত পাটের কল্পিত ফলন’, ‘মেট্রোরেলের নিচে পাটচাষের সম্ভাবনা’, কিংবা ‘বায়ুদূষণে পাটগাছের মানসিক অবসাদ’।
শুনেছি, ইনস্টিটিউটে গবেষণা হয় পাটের আঁশ নিয়ে। কিন্তু যে শহরে প্রতিদিন মানুষের স্নায়ুর আঁশ ছিঁড়ে যাচ্ছে যানজটে, সেখানে পাটের আঁশ নিয়ে গবেষণা করাই বোধ হয় সবচেয়ে নিরাপদ কাজ। আসলে আমরা গবেষণাকে মাঠে নিয়ে যাই না, মাঠকে গবেষণা থেকে দূরে রাখি। কৃষক রোদে দাঁড়িয়ে পাট কাটছেন, আর গবেষক এসির নিচে বসে ভাবছেন, পাট দেখতে আসলে কেমন! মাঝেমধ্যে পাওয়ার পয়েন্টে একটি পাটক্ষেতের ছবি দেখানো হয়। কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন, ‘এটা কোথাকার ছবি?’ উত্তর আসে, ‘গুগলের।’
ঢাকার গবেষকদের একটা বড় সুবিধা আছে। মাঠে যেতে হয় না। পাটগাছের গায়ে কাদা লাগার ভয় নেই। সর্বোচ্চ ঝুঁকি হলো, অফিসের চা একটু ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। হয়তো একদিন নতুন একটি প্রকল্প হবে। নাম, ‘ভার্চুয়াল পাটক্ষেত উন্নয়ন কর্মসূচি।’ গবেষকরা ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির চশমা পরে ডিজিটাল পাটক্ষেতে হাঁটবেন। মাউস দিয়ে পাট কাটবেন। কি-বোর্ডে চাপ দিয়ে জাগ দেবেন। শেষে এক ক্লিকে ফলনও উঠে আসবে। তখন কৃষককে আর কষ্ট করে পাট ফলাতে হবে না। গবেষণাই যথেষ্ট।
শুধু একটা ভয় রয়ে যায়। যদি কোনো একদিন দেখা যায়, পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণার সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হলো, পাট ছাড়াও পাট নিয়ে দিব্যি গবেষণা করা যায়! তখন হয়তো কৃষকরাই গবেষণার বিষয় হয়ে যাবেন, আর গবেষণা চলবে তাদের অনুপস্থিতিতেই।




