অতএব

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বাংলাদেশে অনুষ্ঠান আয়োজন এখন বুঝি নতুন এক পরীক্ষার মুখে। পুলিশের অনুমতি, প্রশাসনের অনুমতি, আয়োজকের প্রস্তুতি— সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও কোথাও কনসার্ট নিয়ে আপত্তি, কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা, এবার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ বাতিলের দাবিও উঠেছে। অতএব, ভবিষ্যতের আয়োজকদের চেকলিস্টে হয়তো নতুন একটি ঘর যোগ করতেই হবে— ‘তৌহিদী জনতার আপত্তির সম্ভাবনা কতটুকু?’
নৌকাবাইচের ক্ষেত্রটি অবশ্য একটু আলাদা। এখানে মঞ্চ নেই, শিল্পী নেই, উচ্চ শব্দের স্পিকারও হয়তো নেই। আছে নদী, নৌকা, মাঝি আর শত বছরের লোকজ ঐতিহ্য। তবু বিতর্ক এসে হাজির!
যেকোনো বিষয়ে শান্তিপূর্ণ আপত্তি জানানোর অধিকার যেমন আছে, তেমনি দেশের আইন মেনে সাংস্কৃতিক ও লোকজ আয়োজন করার অধিকারও রয়েছে। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন কোনো পক্ষের আপত্তি এমন চাপ তৈরি করে যে, আলোচনা, আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বদলে অনুষ্ঠান বন্ধ করাই একমাত্র সমাধান হয়ে দাঁড়ায়।
প্রশ্ন হলো, আপত্তি ও আয়োজন— দুটোরই সমাধান কি আইন, সংলাপ ও পারস্পরিক সহনশীলতার মধ্য দিয়ে হবে, নাকি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ক্যালেন্ডারে নতুন একটি ঘর যোগ হবে, ‘আজকের অনুষ্ঠান— আপত্তির কারণে অনিশ্চিত!’





