এবং

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নাগরিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, ঢাকা এরই মধ্যে সফলভাবে ‘সড়ক থেকে নদী’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এখন শুধু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অপেক্ষা। বৃষ্টির প্রথম ২০ মিনিটে যেসব সড়কে হাঁটাচলা করা যায়, পরবর্তী ৩০ মিনিটে সেখানে ছোট নৌকা চলাচল সম্ভব হবে। ১ ঘণ্টা পর মাছ ধরারও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলাবদ্ধতাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার কোনো কারণ নেই। এটি মূলত নগরবাসীর বিনামূল্যে জলভ্রমণের সুযোগ। বিদেশে মানুষ কৃত্রিম লেক বানায়, আমরা প্রকৃতিকে এতটাই ভালোবাসি যে, রাস্তার ওপরই লেক তৈরি করে ফেলি।
এদিকে অফিসগামীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছাতার পাশাপাশি লাইফ জ্যাকেট, বৈঠা ও সাঁতারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাদের মোটরসাইকেল আছে, তারা প্রয়োজনে সেটিকে সাবমেরিন হিসেবে কল্পনা করতে পারেন। এতে মানসিক চাপ কিছুটা কমবে।
ঢাকার রিকশাচালকরা অবশ্য বৃষ্টিকে অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন। একসময় ভাড়া হতো দূরত্ব অনুযায়ী। এখন ভাড়া নির্ধারিত হয় পানির গভীরতা দেখে। হাঁটুপানি এক রেট, কোমরপানি আরেক রেট। কোথাও যদি ঢেউ ওঠে, সেটি ‘বিশেষ সারচার্জ’ হিসেবে গণ্য হবে।
শহরের ফুটপাতও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। কোথাও ফুটপাত পানির নিচে, কোথাও পানি ফুটপাতের ওপর। নাগরিকরা তাই অনুমানভিত্তিক পদক্ষেপে হাঁটছেন। কোথায় গর্ত, কোথায় ম্যানহোল এবং কোথায় রাস্তা শেষ হয়ে খাল শুরু হয়েছে, তা জানতে ভাগ্যের ওপর আস্থা রাখাই উত্তম।
এদিকে মশারা নগর উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের ভাষ্য, ‘আমাদের আবাসন-সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। প্রতিটি জলাবদ্ধতাই এখন সম্ভাবনাময় আবাসিক এলাকা।’ বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, ‘ঢাকায় বৃষ্টি হয় না; বরং নগর পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবতার নিয়মিত বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের কার্যবিবরণীই আমরা জলাবদ্ধতা হিসেবে দেখি।’
সবশেষে রাজধানীবাসীর উদ্দেশে একটি সুখবর। আগামী মৌসুমে যদি একইভাবে বৃষ্টি হয়, তাহলে ঢাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্থলভাগে অবস্থিত মৌসুমি জলনগর’ ঘোষণা করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সুতরাং তত দিন পর্যন্ত নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ, রাস্তায় বের হলে গন্তব্যের পাশাপাশি স্রোতের দিকটাও দেখে নেবেন এবং অবশ্যই স্রোতে সাঁতার শেখার বিষয়টি রপ্ত করে নেবেন।




