কী জানি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
হঠাৎ এক ভোরে ঘুম ভাঙতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বচ্ছ হয়ে গেল জানালার কাচ। বাইরে নজর দিতেই চোখে পড়ল নীল আকাশে তুলার মতো ভাসছে মেঘ। মৃদু রোদে চিকচিক করছে পুরো শহর; ঘুরতে বের হওয়ার জন্য যেন সবচেয়ে দারুণ আবহাওয়া! মন চায় প্রকৃতির মাঝে কিছুক্ষণ সময় ব্যয় করতে। তবে পুরো সপ্তাহ কাজ শেষে ছুটির দিন ঘরের বাইরে পা রাখতেও ইচ্ছা হয় না। এ অবস্থায় ঘরের সোফায় বসেই পৃথিবীর অন্য প্রান্তের হিমশৈল বা মঙ্গলের লাল ধুলো দেখতে পেলে ব্যাপারটা বেশ ভালোই হতো। আশা ভরা এ কল্পনা সম্ভব হবে ২০৫০ সালে। ডাইনিং টেবিলে বসে কফির মগে চুমুক দিতে দিতেই মজা নেওয়া যাবে প্যারিসে হাঁটার। এটি কোনো জাদু নয়; বরং প্রযুক্তির এক শান্ত অথচ রহস্যময় বিজয়। ২৪ বছর পর ভ্রমণ কেমন হতে পারে— সেটি নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অনলাইন পাবলিশিং প্ল্যাটফর্ম মিডিয়াম। পূর্বাভাস নিয়ে ২০১৯ সালে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে তারা।
ভবিষ্যতে ভ্রমণ শুধু শারীরিকভাবে কোনো ভিনদেশে অবস্থানের ব্যাপার হবে না। এটি মূলত হবে একটি মানসিক অবস্থার বিষয়। সেসময় নতুন স্থান ঘুরে দেখার জন্য মানুষের সামনে থাকবে হাজারো উপায়। আর এসবই হবে উন্নত প্রযুক্তি ও স্নায়ুবিজ্ঞানের সহায়তায়। ২০৫০ সালের ভ্রমণব্যবস্থা হবে ব্যাপকভাবে সহজলভ্য। পাশাপাশি তা হবে সবার জন্য উন্মুক্ত। এতে থাকবে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী স্থান পরিবর্তনের সুযোগ এবং তাৎক্ষণিক ভ্রমণের সম্ভাবনা। অন্যতম প্রযুক্তি ও স্নায়ুবিজ্ঞানের সহায়তায় বাস্তবে রূপ দেওয়া যাবে এমন কিছু কাল্পনিক স্থানের, যার বাস্তবে নেই কোনো অস্তিত্ব। ভবিষ্যতের রোমাঞ্চকর ভ্রমণের পূর্বাভাসের পেছনে অবশ্য রয়েছে একটি দুঃখজনক কারণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পৃথিবী হয়তো হয়ে উঠবে অনেক বেশি অচেনা ও বিপজ্জনক। পরিবেশের অবনতির কারণে বাস্তবের যাত্রা মনে হয় কিছুসংখ্যক ব্যক্তির জন্যই থাকবে সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের কাছে শারীরিক যাত্রা হবে অতীতের এক ধুলোবালি মাখা স্মৃতি। এজন্যই প্রযুক্তির অবদানে ঘরে বসেই ভ্রমণ করার প্রবণতা ভবিষ্যতে বৃদ্ধি পাবে ব্যাপক হারে।



