বোধ হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
‘চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়’। গানের বুলবুল কবি নজরুল ইসলামের সুরেলা এই লাইনটির মর্মার্থ হাড়ে হাড়ে টের পাবেন ভবিষ্যতের তেলপতিরা! তেল ব্যবসা আর থাকবে না। থেমে যাবে তেল যুদ্ধের দামামা; খনি নিয়ে টানাটানি। ভূরাজনীতির বারুদ স্ফুলিঙ্গ বর্তমান দুনিয়ার এই ‘তেলরাজ’র তেজে আর ফুলকি ছুটবে না বিশ্বনেতাদের দরবারে। পানির দামে দূরের কথা; ফ্রি দিলেও কেউ কিনবে না এক ছটাক! মোদ্দাকথা হলো, জ্বালানি তেলের নাকি প্রয়োজনই থাকবে না আর বিশ্বে! ২০৩০ সালের পরই নাকি এই দিন দেখবে বিশ্ব। ২০১৪ সালেই এই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি উদ্যোক্তা লেখক টনি সেবা। এজন্যই বোধহয় বলা হয়, ‘আজ যে রাজা কাল সে ফকির।’
নিজের লেখা ‘ক্লিন ডেসরাপশন অব এনার্জি অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন’-এ দুঃসাহসী এ মন্তব্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, বিদ্যুৎ তৈরি বা জ্বালানি— কিছুতেই আর তেলের দরকার হবে না। পরিবেশ রক্ষা বা বৈশ্বিক পরিবর্তনের জন্য নয়। বরং জ্বালানির তেল ব্যবহারে বিকল্প মাধ্যম আসবে বলেই কোনো দেশে আর তেল বা জ্বালানি প্রতিষ্ঠান থাকবে না। ২০৩০ সালের মধ্যেই বিশ্বে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে যোগ হবে লিথিয়াম ব্যাটারি, সৌর ও বায়ুশক্তিসহ নানামুখী প্রাকৃতিক উপায়। রাস্তায় রাস্তায় নামবে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি। নতুন এসব উপায়েই পূরণ হবে বিশ্বের শতভাগ জ্বালানি চাহিদা। উল্টো উদ্বৃত্ত থাকবে জ্বালানি। আর এ পদ্ধতিকে তিনি বলেছেন ‘সুপার পাওয়ার’। টনি সেবার এক যুগ আগের এ ভবিষ্যদ্বাণী অনেকটাই বাস্তব হয়ে উঠছে দিনে দিনে। পুরোপুরি না হলেও বিশ্ব এখন সাম্প্রতিক সময়ে তেলের গাড়ি ফেলে ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছে।
বই লেখার তাগিদেই এ বিষয়ে গবেষণায় নামেন তিনি। সেখানে স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি ভবিষ্যতে বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির উদ্ভাবনে কম খরচে জ্বালানি আর বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়, তাহলে তেলখনির কোনো দরকারই থাকবে না বিশ্বে। ‘এনার্জি মিডিয়া’র সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তেলব্যবসা নিয়ে পরমর্শও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের সরকারকেই জ্বালানি বাণিজ্য থেকে সরে অন্য প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে মন দেওয়া দরকার।




