অথচ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
প্রতিষ্ঠানটির নাম বলব না। নাম বললে তারা আহত হতে পারে। আহত হলে তদন্ত কমিটি বসবে। তদন্ত কমিটি বসলে চা আসবে। বিস্কুট আসবে। তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।
সবচেয়ে ভালো লাগে প্রতিষ্ঠানটির শৃঙ্খলা দেখে। তারা দারুণ শৃঙ্খলাপরায়ণ। এতটাই যে, ঢুকতে গেলেই শৃঙ্খলা সবাইকে আটকে দেয়। গেটের সামনে একজন শৃঙ্খলা দাঁড়িয়ে থাকেন। মুখ বরাবরই গম্ভীর। তিনি সহজে কিছু বলেন না। শুধু বিরক্তি নিয়ে সবার দিকে তাকান। তাকানোর ভেতরেও শৃঙ্খলা লেখা থাকে।
অফিসে ঢুকলে আরও শৃঙ্খলা দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে ফাইল। ফাইলগুলো শৃঙ্খলার মতোই। ফাইলের ওপর ফাইল। ফাইলের নিচে মানুষ। মানুষগুলো নড়াচড়া কম করে। নড়াচড়া করলে ফাইল পড়ে যেতে পারে।
এই প্রতিষ্ঠানে সময়ের মূল্য অনেক। বিশেষ করে আপনার। আপনাকে সকাল ৯টায় আসতে বলা হবে। কিন্তু রুমে ডাকা হবে বেলা ৩টায়। মাঝখানের সময়টা কোথায় যায়, বলা মুশকিল। সময়টা সম্ভবত অন্য কোনো ফাইলে আটকে থাকে।
রুমের কোনায় এক ভদ্রলোক আয়েশি ভঙ্গিতে বসে আছেন। একটু পরপর বিরক্তি নিয়ে চায়ে চুমুক দিচ্ছেন। তিনি জানালেন, কাজটা আজ না করে কাল করবেন। তবে কাল হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। কাল না পারলে পরশু হবে। পরশু না পারলে তার পরের দিন। তার পরের দিন না হলে কোনো একদিন হবেই।
তিনি মাঝে মাঝেই একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন, ‘আজ স্যার নেই। অফিসের কাজে বাইরে।’ কেন স্যার নেই জানতে চাওয়া বেয়াদবি। স্যার কোথায়? এ প্রশ্ন করা চরম বেয়াদবি।
এই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম খুব কঠিন। কাগজ ছাড়া কাজ হয় না। কাগজ থাকলেও আরেকটা কাগজ লাগে। সেই কাগজ নিয়ে এলে আরেকটা কাগজ আনতে বলা হয়। সব আনার পর কাগজে মারাত্মক ভুল ধরা পড়ে। কাজ আটকে যায়। এবার ভুল সংশোধন করতে ছুটতে হয় আরেক প্রতিষ্ঠানে। সেখানেও দেখা যায় শৃঙ্খলা। শৃঙ্খলার ওপর ফাইল। ফাইলের নিচে মানুষ।
সবচেয়ে মজার ব্যাপারটা শেষে বলি। প্রতিষ্ঠানটি জনগণের জন্য। জনগণই শুধু একটু বাড়তি সমস্যা।






