বোধহয়

মেঘের মতো ভাসবে শহর! অ্যাভাটার সিনেমার পেন্ডোরা শহরের আকাশে ভাসমান সেই পাহাড়ের মতো। সে তো ছিল বিখ্যাত হলিউড পরিচালক জেমস ক্যামেরনের কল্পনা। ভবিষ্যতে নাকি সত্যি সত্যিই এমন ভাসমান শহর থাকবে দেশে দেশে। একতলা, দশতলা, একশতলা— যত তলাই হোক; ডুববে না। পুরো পৃথিবী তলিয়ে গেলেও ভেসে থাকবে শহরগুলো! ২০৫০ সালের মধ্যেই নাকি মাথা তুলবে ভাসমান এ শহরগুলো। ১৯৯৬ সালেই এ চিন্তা ঢুকেছিল স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান টুরেন্সকেপের প্রতিষ্ঠাতা কংজিয়ান ইউয়ের মাথায়। ‘অ্যা স্পঞ্জ সিটি মেবি ইওর হোম ইন ২০৫০’ নামে একটি নিবন্ধও ছাপা হয়েছে দ্য কনভারসেশনে।
সবার আগে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাইয়ে দেখা যাবে এ ‘ভাসমান দ্বীপ’। একে একে বিশ্বের বাকি দেশগুলোতেও। তাপপ্রবাহ, ঝড়, বন্যাসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেই স্থাপত্যশিল্পের এই উন্নত প্রযুক্তির পেছনে ছুটছেন প্রকৌশলীরা। সব ঠিক থাকলে, আজ থেকে ২৪ বছর পর; পৃথিবীর সব মানুষের ঠিকানা হবে সেই ‘স্পঞ্জ শহর’। এরই মধ্যে ফলতে শুরু করেছে কংজিয়ান ইউয়ের সেই ভবিষ্যৎ ভাবনা। অভিষেকও ঘটছে চীনেই। ২০১২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ‘স্পঞ্জ সিটি’ প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে চীন সরকার। বন্যা মোকাবিলায় নতুন করে ভাসমান শহর নিয়ে কাজ শুরু করেন ইউ। বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এড়াবে এই শহর। তার নকশা করা শহরে ব্যবহার হবে না কংক্রিট। থাকবে সবুজ দালান, ছিদ্রযুক্ত ফুটপাত ও জলাভূমি। সেখানে বৃষ্টির পানি হবে না অপচয়। প্রাকৃতিক উপায়ে করা হবে ধারণ। বৃষ্টির পানি যাতে দ্রুত শোষণ, পরিষ্কার ও ব্যবহার করা যায় সেভাবে নির্মাণ করা হবে এসব ভাসমান শহর। ফোর্বসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইউ সে সময় জানিয়েছেন, তার নকশা করা শহর আটকাবে বৃষ্টির পানি, করবে ধীরগতি।
স্পঞ্জ শহরের দেখা
নকশার পর প্রথম ভাসমান শহরের কাজ শেষ হয় ২০০২ সালে। চীনের ঝোংশান শহরে একটি পরিত্যক্ত জাহাজের কারখানাকে পার্কে করা হয় পরিবর্তন। গড়ে তোলা হয় স্পঞ্জ শহরের নকশা মেনে। ২০১৫ সালে চীন সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।




