বোধহয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একদিন সকালে হঠাৎ করেই বদলে যাবে শক্তি উৎপাদনের চিত্র। শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া হওয়া শুধু গাছের পাতায় দোলাবে না তখন, উৎপাদন করবে তড়িৎ শক্তিও। সূর্যের আলো, সমুদ্রের ঢেউ— সবই রূপান্তরিত হবে জ্বালানি শক্তিতে। ‘নবায়নযোগ্য শক্তি’ই হবে সে সময় পৃথিবীর সব জ্বালানির নতুন উৎস। ২০৫০ সালের মধ্যেই। ভবিষ্যতে শক্তি খাতের এমন পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’।
নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে— সূর্যের আলো, বাতাস, পানি, জৈববর্জ্য ও ভূ-তাপ। এগুলোর ব্যবহারে গ্রিন হাউজ গ্যাস বা বায়ুদূষক পদার্থ নির্গত হয় না বললেই চলে। পরিবেশ রক্ষায় বিকল্প শক্তির উৎসে বিনিয়োগ করাই এর মূল লক্ষ্য। কেননা এসব শক্তি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য, সাশ্রয়ী, টেকসই ও নির্ভরযোগ্য। বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় প্রায় ৬০ শতাংশ। এতে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেক। তবে ক্লাইমেট অ্যাকশনের নেওয়া পদক্ষেপে নবায়নযোগ্য শক্তি পরিবেশ রক্ষায় আনতে পারে বড় পরিবর্তন। সংস্থাটির দাবি, এ ধরনের শক্তির উৎস আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে আছে। ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে উৎপাদন করা সম্ভব এবং তা করা উচিত। এতে করে প্রতিটি দেশের অর্থনীতিতে আসবে বৈচিত্র্য। জ্বালানির মূল্যের অনিশ্চিত ওঠানামা থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করবে এটি। পাশাপাশি ভূমিকা রাখবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্রতা হ্রাসে। ভবিষ্যতে বিদ্যুতের নতুন চাহিদা মেটাতেও সহায়তা করতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রে সরবরাহ করতে পারে চাহিদার সমান বিদ্যুৎ। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। কেননা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত গ্যাস থেকে হয় বায়ুদূষণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ প্রাণহানি হয়ে থাকে এই দূষণ থেকে। অর্থাৎ বায়ু ও সৌরশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন শক্তির উৎসে সরে আসা শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়; বরং বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যগত সমস্যা মোকাবিলায়ও সহায়ক।




