কিন্তু

দেশে এখন গ্যাসের অভাব আছে, কিন্তু দামের অভাব নেই। সিলিন্ডার খুঁজতে গেলে দোকানদার বলেন, ‘নাই’। অথচ দাম জানতে চাইলে এমন অঙ্ক বলেন, মনে হয় ভেতরে গ্যাস নয়, স্বর্ণের বার রাখা আছে।
দেড় মাসের বেশি সময় ধরে বাজারে এলপিজির সরবরাহে ঘাটতি। নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া কঠিন। এর মধ্যেই ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ২২৩ টাকা। আগে বেড়েছিল ২১২ টাকা। অর্থাৎ গ্যাস মিলুক বা না মিলুক, দাম বাড়ার ধারাবাহিকতা ঠিকই আছে। সরবরাহের চুলা বন্ধ থাকলেও মূল্যবৃদ্ধির চুলা কিন্তু জ্বলছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাগজের দাম আর বাজারের দামের মধ্যে যেন দীর্ঘদিনের বিরোধ। একপক্ষ থাকে সরকারি ঘোষণায়, অন্যপক্ষ দোকানে। আর ভোক্তা মাঝখানে পড়ে সেই বিরোধের মাশুল দেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি তেমন কমেনি। তাহলে গ্যাস গেল কোথায়? প্রশ্নটি অবশ্য দোকানদারকে করলে তিনি আকাশের দিকে তাকান। ভোক্তাও আর কথা বাড়ান না। কারণ, বেশি প্রশ্ন করলে সিলিন্ডার পাওয়ার সামান্য আশাটুকুও হারাতে পারেন।
দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ এলপিজি ব্যবহার করেন। তাদের কাছে সিলিন্ডার এখন শুধু রান্নার জ্বালানি নয়, সংসারের মাসিক বাজেটের বড় পরীক্ষা। চাল, ডাল, তেল কেনার পর গ্যাসের জন্য আলাদা তহবিল রাখতে হয়। গ্যাস কিনলে বাজারের টাকা কমে, আর বাজার করলে চুলা জ্বলে না।
এদিকে অনেকে বিকল্প জ্বালানির খোঁজ করছেন। কিন্তু সেখানেও খরচ কম নয়। রান্নাঘরে হিসাবের খাতা, ক্যালকুলেটর আর খালি সিলিন্ডার থাকে। কোনটি কাজে লাগবে, তা ঠিক করাই গেরস্তের চ্যালেঞ্জ। তবে আশার কথা, দাম নিয়মিত সমন্বয় হচ্ছে। গ্যাস আসুক বা না আসুক, নতুন দাম ঠিকই আসে। একদিন হয়তো সিলিন্ডার কেনার আগেই দাম বাড়ার খবর শুনে রান্না সেরে নিতে হবে।
ভোক্তাদেরও তাই ধৈর্য ধরতে হবে। খালি সিলিন্ডারটি ঘরে রেখে দিতে হবে স্মারক হিসেবে। কারণ, এ বাজারে গ্যাস না থাকলেও তার দাম আছে। চুলায় আগুন জ্বলুক বা না জ্বলুক, গ্যাসের বাজারে আগুন কিন্তু ঠিকই জ্বলছে। আর সেই আগুনে পুড়ছে ভোক্তার পকেট।



