৪৩ লাখ টাকার চাকরিতেও শান্তি নেই!

সংগৃহীত ছবি
মোটা বেতনের চাকরি। বছরে আয় ৪৩ লাখ আয়। তবুও স্বস্তি ছিল না জীবনে। কাজের চাপে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন এক প্রযুক্তিকর্মী। শেষ পর্যন্ত নতুন চাকরি পাওয়ার আগেই করেন পদত্যাগ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভানেশ মালি নামে এক ব্যবহারকারী তুলে ধরেন তার বন্ধুর এই অভিজ্ঞতা।
তিনি জানান, গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন তার বন্ধু। নতুন চাকরির চেষ্টা করলেও প্রস্তুতির সময় না থাকায় কোথাও সফল হতে পারছিলেন না।
এ ছাড়া দুই মাসের দীর্ঘ নোটিস পিরিয়ডও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই দ্রুত যোগ দিতে পারবেন এমন কর্মী খুঁজছিল।
শেষ পর্যন্ত কোনো চাকরির নিশ্চয়তা ছাড়াই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চাকরি ছাড়ার পর প্রথম পাঁচ দিন কোনো কাজ বা চাকরি খোঁজেননি। পুরো সময় কাটান পরিবার ও সন্তানদের সঙ্গে।
এরপর সিভি তৈরি করে শুরু করেন চাকরির জন্য আবেদন। পছন্দের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলেও প্রত্যাখ্যাত হন প্রথম তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে।
পরে চতুর্থ একটি প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে ৩৮ লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রস্তাব পান। সেখানে সুযোগ আছে বেশির ভাগ সময় বাসা থেকে কাজ করার। প্রয়োজন হলেই শুধু অফিসে যেতে হয়। নিজের অনুভূতির ওপর ভরসা করে তিনি চাকরির প্রস্তাবটি নিয়ে নেন।
ভানেশ মালি জানান, তার বন্ধু এখন নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এবং নিজের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। তিনি আগের চাকরি ছেড়েছিলেন বেশি বেতনের জন্য নয়। আবার নতুন চাকরিতেও যোগ দিয়েছেন বেশি আয়ের আশায় নয়।
তিনি আরও জানান, বন্ধুর মূল লক্ষ্য ছিল নিজের জন্য কিছু সময় বের করা এবং পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানো। সেই লক্ষ্যেই তিনি ঝুঁকি নিয়ে কোনো চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই ছেড়েছিলেন আগের কর্মস্থল।
এখন তিনি হাসিমুখে বলেছেন, ‘যেটা আমার কাছে সঠিক মনে হয়েছে, সেটাই করেছি। আর এই সিদ্ধান্তে আমি সত্যিই খুশি।’
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা। প্রযুক্তিকর্মীর সাহসী সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন অনেকেই।
একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘এটাই মানুষ করতে ভয় পায়। দু-তিন মাস চাকরি না থাকলেও চলবে, এমন সঞ্চয় না থাকলে কেউ এমন ঝুঁকি নিতে চায় না।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘শান্তির জীবন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অর্থও জরুরি। কম বেতনের হলেও ভালো কোনো সুযোগ পাওয়া গেলে সেটি গ্রহণ করা যায়। তবে বর্তমান চাকরির বাজার আগের মতো সহজ নয়।’
তৃতীয় একজনের মন্তব্য, ‘তার আত্মবিশ্বাস ছিল যে তিনি নতুন চাকরি পাবেন। অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের জন্য প্রতিষ্ঠান বদলানো অনেক সময় তুলনামূলক সহজ।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘টাকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি চাকরি যদি আপনার স্বাস্থ্য, মানসিক শান্তি ও পরিবারের সময় কেড়ে নেয়, তাহলে সেই মূল্য বেতনের অঙ্কের চেয়েও অনেক বেশি।’
সূত্র: এনডিটিভি





