ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, সব দোষ কি এসির?

সংগৃহীত ছবি
প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে আমরা অনেকেই এসির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরম থেকে হুট করে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের এসি রুমে ঢোকা আমাদের শরীরের জন্য ডেকে আনছে বিপদ। আমাদের নাকের ভেতরের অংশ ধীরে ধীরে তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, কিন্তু হঠাৎ এই বড় পরিবর্তন সহ্য করতে পারে না।
শরীরের তাপমাত্রা যখন খুব দ্রুত কমে যায়, তখন নাকের রক্তনালীগুলো একবার সংকুচিত হয় এবং পরক্ষণেই আবার দ্রুত বড় হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘ভ্যাসোমোটর রাইনাইটিস’। এর ফলে কোনো ভাইরাস বা ইনফেকশন ছাড়াই আপনার নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে কিংবা দেখা দিতে পারে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সর্দির সমস্যা।
আমাদের শ্বাসনালীর ভেতরে সিলিয়া নামক চুলের মতো ছোট কিছু অংশ থাকে যার কাজ ধুলোবালি আর জীবাণু পরিষ্কার রাখা। বারবার গরম থেকে এসিতে গেলে এই অংশগুলো কাজ করতে পারে না ঠিকমতো। ফলে ভেতরে তৈরি হয় জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ। এই কারণেই অনেক সময় ডাক্তার দেখালে রিপোর্টে কিছু আসে না, কিন্তু আপনি ঠিকই অসুস্থ বোধ করেন।
রিল্যায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডা. দিব্যা গোপাল এ বিষয়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন:
আর্দ্রতা এবং শুষ্ক বাতাস
এসি বাতাসকে ঠান্ডা করার পাশাপাশি বাতাসের সব আর্দ্রতা শুষে নেয়। ঘরের ভেতরে আর্দ্রতা থাকার কথা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ, কিন্তু এসি চললে তা কমে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে আসে। এই শুষ্ক বাতাস শুকিয়ে ফেলে আমাদের নাকের ভেতরের অংশটা। ফলে নাক আর আগের মতো ভাইরাস বা ময়লা আটকাতে পারে না। তখন খুব সহজেই ভাইরাস আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে এবং শুরু হয় সর্দি।
নোংরা এসি থেকেই ছড়ায় রোগ
অনেকেই মনে করেন শুধু ঠান্ডা বাতাসের কারণেই সর্দি হয়, কিন্তু তা ঠিক নয়। যদি আপনি এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করেন, তবে সেখানে ধুলোবালি, ফুলের রেণু আর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জমে যায়। এসি চালালে সেই নোংরা বাতাসই ঢোকে আপনার নাকে। এর ফলে সারাক্ষণ হাঁচি হওয়া, শরীর ম্যাজম্যাজ করা বা নাকে অস্বস্তি হওয়ার মতো সমস্যা বাড়ে। তাই নিয়মিত এসি সার্ভিসিং করানো খুবই জরুরি।
এসির তাপমাত্রা কত রাখা নিরাপদ?
ডাক্তারদের মতে, বাইরের তাপমাত্রা আর এসির তাপমাত্রার পার্থক্য ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির বেশি হওয়া উচিত নয়। যেমন, বাইরে যদি ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকে, তবে শুরুতে ছেড়ে দিন এসি ২৮ থেকে ৩০ ডিগ্রিতে। কিছুক্ষণ পর শরীর মানিয়ে নিলে তাপমাত্রা কমিয়ে আনুন ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রিতে। এতে আপনার ফুসফুস বা শ্বাসনালীর ওপর পড়বে না বাড়তি চাপ।
ভয়াবহ গরমে এসি ছাড়া থাকা কঠিন, তবে নিয়ম মেনে চললে বিপদ এড়ানো সম্ভব। এসির তাপমাত্রা খুব বেশি না কমিয়ে মাঝারি রাখা, সময়মতো সার্ভিসিং করা এবং হুটহাট এসি থেকে বাইরে না যাওয়ার অভ্যাস করলে সুস্থ থাকবেন আপনি।
মনে রাখবেন, যদি এই সর্দি বা কাশি এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং সাথে জ্বর বা গায়ে ব্যথা থাকে, তবে দেরি না করে অবশ্যই একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

