ঘরেই বানান ‘মিষ্টি কুমড়ার বল’

পামকিন বল বা মিষ্টি কুমড়োর লাড্ডু
সন্ধ্যা নামলেই চায়ের পেয়ালায় চুমুক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি জিভে মিষ্টির স্বাদ পাওয়ার জেদ চাপে, তবে বিস্কুটের কৌটোর দিকে হাত না বাড়িয়ে ট্রাই করতে পারেন দারুণ এক স্বাস্থ্যকর পদ। কোনো রকম অতিরিক্ত চিনি, গুড়, ময়দা বা ওভেনের ঝামেলা ছাড়াই মাত্র বিশ মিনিটে বানিয়ে ফেলা যায় সুস্বাদু পামকিন বল বা মিষ্টি কুমড়োর লাড্ডু।
এই নরম ও লোভনীয় মিষ্টি বলগুলোর মূল মিষ্টির উৎস হলো খেজুর। আর এর ভেতরে থাকা মিষ্টি কুমড়ো বা কদু এটিকে দিয়েছে এক চমৎকার, আর্দ্র এবং প্রায় হালুয়ার মতো দারুণ টেক্সচার। সামান্য দারুচিনি ও এলাচের গুঁড়ো রান্নার সময় পুরো ঘর মাতাবে এক সুমধুর গন্ধে। তাছাড়া, ফ্রিজে বেঁচে যাওয়া কুমড়োর টুকরো সদ্ব্যবহার করার এর চেয়ে ভালো উপায় আর হতেই পারে না।
এক ডজন বল তৈরির জন্য আপনার হাতের কাছেই থাকা কিছু সাধারণ উপাদানই যথেষ্ট, যার মধ্যে রয়েছে আধ কাপ সেদ্ধ ও ভালোভাবে চটকে নেওয়া মিষ্টি কুমড়ো, ১০ থেকে ১২টি নরম ও বিচি ছাড়ানো খেজুর, এক কাপ ওটস এবং এক চতুর্থাংশ কাপ কুচানো কাজুবাদাম। ফ্লেভারের জন্য লাগবে আধ চা চামচ দারুচিনি গুঁড়ো, এক চিমটি এলাচ গুঁড়ো এবং এক চিমটি নুন, আর বল গড়ার জন্য গ্রেট করা নারকেল বা কুমড়োর বীজ। খেজুর শক্ত হলে ব্যবহারের আগে দশ মিনিট ঈষদুষ্ণ জলে ভিজিয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে।
রেসিপিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো কুমড়ো প্রস্তুত করা, যা পুরো স্বাদের মান নির্ধারণ করে। কুমড়ো টুকরো করে কেটে সেদ্ধ বা রোস্ট করে ভালোভাবে চটকে নেওয়ার পর একটি কড়াইতে কম আঁচে পাঁচ থেকে সাত মিনিট ধরে নাড়তে হবে, যাতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা শুকিয়ে কুমড়োটি ঘন পেস্টের মতো হয়ে যায়। ভেজা কুমড়ো দিয়ে আঠালো বল তৈরি হয় বলে মিশ্রণটি সম্পূর্ণ ঠান্ডা করে নেওয়া জরুরি।
এরপর মিক্সার বা ফুড প্রসেসরে খেজুরগুলো ঘুরিয়ে একটি আঠালো বলের রূপ দেওয়ার পর তার সাথে ঠান্ডা করা কুমড়ো, ওটস, কুচানো বাদাম ও মশলা মিশিয়ে কয়েকবার পাল্স করতে হবে। মিশ্রণটি যেন পুরোপুরি মসৃণ না হয়, কারণ ওটস ও বাদামের ছোট টুকরোগুলো চিবানোর সময় দারুণ টেক্সচার আনে। মিশ্রণ বেশি আঠালো হলে সামান্য ওটস এবং শুকনো হলে আরও একটি খেজুর বা জল মেশানো যেতে পারে।
হাতে সামান্য জলের স্পর্শ নিয়ে এক চামচ মিশ্রণ ছোট বলের আকারে পাকিয়ে গ্রেট করা নারকেল বা গুঁড়ো করা কুমড়োর বীজে গড়িয়ে নিতে হবে। অতিথি আপ্যায়নে প্রতিটি বলের ওপর একটি করে ছোট আমবাদামের ফ্লেক বসিয়ে দিলেও দেখতে সুন্দর লাগে। এরপর প্লেটটি ত্রিশ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ফ্রিজে রাখলে বলগুলো শক্ত হয় এবং আসল স্বাদ ফুটে ওঠে।
বায়ুরোধী পাত্রে ফ্রিজে রাখলে এই পামকিন বলগুলো প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত তাজা থাকে, তবে গরম আবহওয়ায় বেশিক্ষণ বাইরে না রেখে সংরক্ষণ করতে হবে। অতিরিক্ত স্বাদ বা গন্ধের জন্য মিশ্রণে এক চা চামচ ঘি, এক চিমটি জাইফল গুঁড়ো বা কিসমিস যোগ করা যায়। খেঁজুর ও কুমড়োতে প্রাকৃতিকভাবে শর্করা থাকায় পরিমিত পরিমাণে এটি খাওয়া উচিত এবং ডায়াবেটিস রোগী বা অ্যালার্জিযুক্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
সুত্রঃ টাইমস ইন্টারটেইনমেন্ট





