সকালে কুমড়োর বীজ খাওয়ার অভ্যাস বদলে দেবে স্বাস্থ্য

ছোট্ট এই বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট ও ফাইবার। ছবি : সংগৃহীত।
সকালে ঘুম থেকে উঠে কেউ মৌরি ভেজানো পানি খান, আবার কেউ বেছে নেন লেবু-মধুর পানি। সুস্বাস্থ্যের জন্য দুটিই বেশ উপকারী। তবে ডায়েটেশিয়ানদের মতে, এসবের পাশাপাশি সকালে ভেজানো কুমড়োর বীজ খাওয়ার অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যে আনতে পারে জাদুকরী পরিবর্তন।
কুমড়োর বীজে রয়েছে ট্রিপটোফ্যান নামক এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড, যা শরীরে সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে সরাসরি সহায়তা করে। এই দুই হরমোন মানুষের মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফলে নিয়মিত কুমড়োর বীজ খেলে অবসাদ ও মানসিক চাপ কমে এবং মন ফুরফুরে থাকে। এছাড়া সেরোটোনিন স্নায়ুতন্ত্রের চাপ কমিয়ে অনিদ্রার সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে।
ছোট্ট এই বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট ও ফাইবার। এছাড়াও এটি ম্যাঙ্গানিজ, কপার ও ম্যাগনেশিয়ামের অত্যন্ত চমৎকার একটি উৎস।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে অনেক সময় মূত্রথলিতে প্রস্রাব ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে, যা দৈনন্দিন জীবনে অস্বস্তি তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কুমড়োর বীজ খাওয়ার অভ্যাস এই সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারে।
ভেজানো কুমড়োর বীজ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে নারীদের রজোনিবৃত্তির (মেনোপজ) পর রক্তচাপের যে ওঠানামা দেখা দেয়, তা নিয়ন্ত্রণেও এটি বেশ কার্যকর। এটি শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে।
কুমড়োর বীজে থাকা উচ্চমাত্রার ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাত্র এক চামচ ভেজানো কুমড়োর বীজ থাকলে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়ার পরেও রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে পারে না।




