বিশ্বকাপ খরা কাটাতে ব্রাজিলের নতুন অস্ত্র ‘স্মার্ট ভেস্ট’

সংগৃহীত ছবি
ফুটবলবিশ্বে ব্রাজিল মানেই এক নান্দনিক শিল্প। কিন্তু বাস্তবতার নির্মম সত্য হলো, গত ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপের
ট্রফি ছুঁয়ে দেখা হয়নি সেলেসাওদের। এমনকি টানা পাঁচবার বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠতে পারেনি তারা, যা ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে প্রায় এক ‘অপরাধের’ মতো। এবার সেই আক্ষেপ ও অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে মরিয়া ব্রাজিল শিবির।
২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ট্রফি জয়ের অভিযানে কার্লো আনচেলত্তির দল কেবল ফুটবলীয় প্রতিভার ওপর নির্ভর করছে না, বরং যুক্ত করেছে আধুনিক বিজ্ঞানের এক অভিনব অস্ত্র- ‘স্মার্ট ভেস্ট’।
কী এই স্মার্ট ভেস্ট এবং কীভাবে এটি কাজ করে?
অনুশীলনের সময় ব্রাজিলের ফুটবলাররা জার্সির নিচে বিশেষ এক ধরনের অন্তর্বাস বা ভেস্ট পরেন। আপাতদৃষ্টিতে
সাধারণ মনে হলেও এই ভেস্টগুলোর ভেতরে রয়েছে অত্যাধুনিক জিপিএস ট্র্যাকার, হাই-টেক মোশন সেন্সর এবং বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি।
মাঠে একজন খেলোয়াড় যখন দৌড়ান, তখনতার প্রতিটি নড়াচড়া এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তরিত হয়। এইভেস্টের কাজ হলো:
শারীরিক সক্ষমতা ও ক্লান্তি পরিমাপ: ফুটবলাররা ঠিক কতটা দূরত্ব দৌড়েছেন, কত দ্রুত গতি বাড়িয়েছেন, তাদের
হৃদস্পন্দন কেমন এবং শরীরের ওপর ঠিক কতটা ধকল যাচ্ছে- তার নিখুঁত হিসাব দেয় এই প্রযুক্তি। এর ফলে কোন খেলোয়াড় ক্লান্তির শেষ সীমায় পৌঁছে গেছেন তা সহজেই বোঝা যায়।
চোটের ঝুঁকি কমানো: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারকা খেলোয়াড়দের চোট ব্রাজিলকে মারাত্মকভাবে ভুগিয়েছে। স্মার্ট ভেস্টের ডেটা বিশ্লেষণ করে স্পোর্টস সায়েন্স বিশেষজ্ঞরা বুঝতে পারেন কার চোট পাওয়ার ঝুঁকি বেশি। সেই অনুযায়ী ব্যক্তিগত অনুশীলনের মাত্রা নির্ধারণ বা বিশ্রাম দেওয়া হয়।
মাঠে সঠিক অবস্থান নির্ণয়: এ সংক্রান্ত এক বিবিসির প্রতিবেদনের শিরোনামেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে- "হি ওয়াজ
অলওয়েজ ইন দ্য রাইট স্পট" (তিনি সবসময় সঠিক স্থানেই ছিলেন)। এই প্রযুক্তির সাহায্যে নিখুঁতভাবে জানা যায়, ম্যাচের বা অনুশীলনের সময় একজন ফুটবলার মাঠের ঠিক কোন জায়গায় বেশি সময় কাটাচ্ছেন, কোথায় তার কার্যকারিতা সবচেয়ে বেশি, কিংবা কোন পজিশনে গেলে দলের রক্ষণ বা আক্রমণের ভারসাম্য ভেঙে যাচ্ছে।
অনুমান নয়, সিদ্ধান্ত হবে তথ্যের ভিত্তিতে
ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ এবং স্পোর্টস সায়েন্স দল এখন আর কেবল নিজেদের চোখ বা অনুমানের ওপর ভরসা করে দল
সাজাচ্ছেন না। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের মতো তারকাখচিত দলের প্রতিটি মুভমেন্ট এখন ডেটা বা বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোচ কার্লো আনচেলত্তি মাঠের বাস্তব চিত্র বুঝে তাত্ক্ষণিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন।
শিল্প ও বিজ্ঞানের মেলবন্ধন ব্রাজিলের ফুটবলকে বরাবরই শিল্পের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কিন্তু আধুনিক যুগের গতিশীল
ফুটবলে শুধু প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকাপ জেতা অসম্ভব- তা ব্রাজিল খুব ভালো করেই টের পেয়েছে। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের চিরচেনা সাম্বা ফুটবলের শৈল্পিকতার সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রীড়াবিজ্ঞানের এই মেলবন্ধন ঘটিয়েছে তারা।




