বিজ্ঞান কল্পকাহিনি
আপলোড

ভবিষ্যতে মৃত্যুর পর মানুষের চেতনা যদি কোনো ফিজিক্যাল গ্রেভইয়ার্ড বা স্বর্গে না গিয়ে জমা হয় কোডিংয়ের এক নিখুঁত ভার্চুয়াল দুনিয়ায়, তবে কেমন হতো? এই কৌতূহলোদ্দীপক ধারণার ওপর ভিত্তি করেই অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর জনপ্রিয় সায়েন্স ফিকশন কমেডি সিরিজ ‘আপলোড’ নির্মাণ করেছেন গ্রেগ ড্যানিয়েলস। ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই সিরিজের মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে নাথান ব্রাউন (রবি আমেল) নামের এক তরুণ কম্পিউটার প্রোগ্রামারকে ঘিরে। আকস্মিক এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মুখোমুখি হলে তার ধনী গার্লফ্রেন্ডের উদ্যোগে নাথানের চেতনাকে আপলোড করা হয় ‘লেকভিউ’ নামে এক বিলাসবহুল ডিজিটাল আফটারলাইফে। সেখানে গিয়ে নাথানের পরিচয় হয় নোরার (অ্যান্ডি আলো) সঙ্গে, যিনি রিয়েল ওয়ার্ল্ড থেকে তার কাস্টমার সার্ভিস ‘অ্যাঞ্জেল’ বা মেন্টর হিসেবে কাজ করেন। গল্প এগোলে বোঝা যায়, নাথানের এই দুর্ঘটনা কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক গভীর রহস্য। সিরিজটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর চমৎকার ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির এক অদ্ভুত ও হাস্যরসাত্মক ব্যঙ্গাত্মক রূপ। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য টাকা খরচ করা, ডেটা শেষ হয়ে যাওয়া, করপোরেট লোভ ও প্রযুক্তির বাড়াবাড়ি— সব মিলিয়ে এক অনন্য জগৎ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর পাশাপাশি নাথান ও নোরার মধ্যকার রসায়ন দর্শককে আবেগী করে তোলে। হাসি, রহস্য, রোমাঞ্চ আর প্রযুক্তির এক অপূর্ব মিশ্রণ দেখতে চাইলে ‘আপলোড’ সিরিজটি যে কারও ভালো লাগবে। প্রযুক্তিপ্রেমী ও সায়েন্স ফিকশন ঘরানার দর্শকের জন্য এটি এক দারুণ উপভোগ্য বিনোদন।



