প্রাণিকুলে আদুরে বাবা

বাবার আদর পেলে তোমরা যেমন একদম গলে যাও, তেমনি বাবাও সন্তানের আদরে শিশুদের মতো খলবল করেন! প্রাণিকুলেও বাচ্চাদেরকে ভালোবাসার নমুনা অনেক। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে তথ্য নিয়ে এমন কয়েকটি বাবার গল্প জানাচ্ছেন আরিফুল ইসলাম
পেঙ্গুইন
‘কোট পরা ভদ্রলোক’ নামে খ্যাতি আছে পেইঙ্গুইনের। এই পাখির বাস দক্ষিণ মেরুতে। সাদা বরফের ওপর ওরা যখন টুকটুক করে হেঁটে বেড়ায়, দেখতে সত্যি মানুষের মতো মনে হয়। ওদের সমাজে একটা দারুণ নিয়ম আছে। ডিম পাড়ার পর মা পেঙ্গুইন লম্বা সময়ের জন্য পরিবার ছেড়ে দূরে চলে যায় খাবারের খোঁজে। এ সময়ে বাবা পেঙ্গুইন খুব যত্ন নিয়ে নিজের পায়ের ওপর রেখে সেই ডিমে তা দেয়। পরের দুই মাস ধরে, অর্থাৎ ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার আগপর্যন্ত এ দায়িত্ব বাবাই সামলায়। এ সময়ে অন্য কোনো কাজ এমনকি খাওয়াদাওয়াকেও পাত্তা দেয় না সে। মা পেঙ্গুইন ফেরার আগেই যদি ডিম ফুটে ফুটফুটে পেঙ্গুইন ছানা জন্মে যায়, তাহলে সেই বাচ্চার লালনপালনও বাবাই করে।
পুঁচকে বানর
ইংরেজিতে ওদের কেতাবি নাম কমন মারমোসেট। পিগমি মারমোসেট নামেও ডাকে অনেকে। একেবারেই পুঁচকে আকারের বানর। এই প্রাণীর বাচ্চারা জন্মানোর পরপরই তাদের সেবায় হাজির হয় বাবা। এরপর শাবকগুলোর প্রথম দুই সপ্তাহ কাটে বাবার পিঠে চড়ে। এ বানর ছানাগুলোর খাওয়াদাওয়া যদিও মা নিশ্চিত করে; কিন্তু বড় হওয়ার আগপর্যন্ত অন্য যেকোনো প্রয়োজনে এরা সবার আগে বাবার কাছেই ছুটে যায়। বাবা বানরও সব ফেলে সাড়া দেয় সেই ডাকে।
লাল শিয়াল
জন্মের পর প্রথম তিন মাস গর্তেই জীবন কাটে রেড ফক্সের। তারপর এই শাবকগুলো নিজেদের বাবা-মায়ের নাকের ডগায়, বাইরের দুনিয়ায় বিচরণ করতে শেখে। সেটি অবশ্য ওই গর্তের আশপাশেই। তারপর আরেকটু বড় হয়ে গেলে খাদ্য সংগ্রহের অভিযানে নামে। সেই অভিযাত্রায় এই শাবকদের পথ দেখায় তাদের বাবা। ওদের শিকার করার দক্ষতা, দৌড়ানোর গতি এবং আচার-আচরণে তখনো অনেকটুকু আনাড়িপনা স্বভাবতই থেকে যায়। বাবা শিয়াল তখন বাচ্চাদের হাতেকলমে শিখিয়ে দেয়, কখন কী করতে হবে।






