মেঘপরী ও টিয়াপাখি

অলঙ্করণ করেছেন রজত
দুই বন্ধুর আদুরে খেলার গল্প লিখেছেন অলকানন্দা রায়
অনেক অনেক দূরের এক দেশে ছিল একটা নীল পাহাড়। সেই পাহাড়ের চূড়ায় বাস করত মেঘপরী। তার কাজ ছিল খুব মজার। প্রতিদিন আকাশ থেকে একমুঠো করে রুপালি মেঘ কুড়িয়ে আনত, আর তা দিয়ে রঙবেরঙের তুলতুলে কার্পেট বানিয়ে বিছিয়ে দিত। সেই কার্পেট বেয়েই নাকি চাঁদমামারা রাতে পৃথিবীতে নেমে আসে!
কিন্তু মেঘপররী একটা দুঃখ ছিল। তার কোনো বন্ধু ছিল না। সে একাই আকাশের মেঘ নিয়ে খেলা করত। ঠিক পাহাড়ের নিচেই একটা সবুজ বন ছিল। সেই বনের একটা ডালের কোণে বাস করত ছোট্ট এক টিয়াপাখি, যার নাম ছিল মিষ্টি। মিষ্টির গলার আওয়াজ ছিল একদম বাঁশির মতো। সে যখনই গান গাইত, বনের ফুলেরা সব মাথা দোলাত।
একদিন মেঘপরী দেখল, আকাশটা বড্ড ফ্যাকাশে। কোনো রঙ নেই। এ নিয়ে একদিন খুব মন খারাপ করে সে পাহাড়ের ওপর বসেছিল। তখন নিচ থেকে একটা মিষ্টি সুর ভেসে এলো। মেঘপরী অবাক হয়ে নিচে তাকাল। দেখল, টিয়াপাখি মিষ্টি ডালের ওপর বসে মন ভরে গান গাইছে। মেঘপরী তার জাদুকরী ডানা মেলে নিচে নেমে এলো। সে মিষ্টির সামনে এসে বলল, ‘তুমি এত সুন্দর গান গাও কেন?’
মিষ্টি চমকে গিয়ে বলল, ‘আমি তো জানি না। যখনই আকাশ দেখি, তখনই আমার মনে গান আসে। কিন্তু আজ আকাশটার কেমন যেন মন খারাপ। তাই আকাশকে হাসানোর জন্য গান গাইছি।’
মেঘপরী হেসে ফেলল। তার হাসি থেকে যেন হাজারটা রঙিন বেলুন বের হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ল। সে বলল, ‘আমি মেঘের রানী। চলো, আমরা দুজনে মিলে আকাশটাকে সাজাই!’
তারপর কী হলো জানো? মেঘপরী তার রুপালি মেঘের ঝুড়ি খুলে দিল। মিষ্টি টিয়াপাখি তার ডানা দিয়ে সেই মেঘগুলো আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে দিতে লাগল। আর মিষ্টির প্রতিটি গানের সুরে মেঘগুলো একেকটা রঙের রূপ নিল— গোলাপি, কমলা, গাঢ় নীল, আর একদম শেষে রামধনুর মতো সাতরঙা।
সেদিন বিকালে পুরো পৃথিবী অবাক হয়ে দেখল, আকাশটা একটা স্বপ্নের মতো সুন্দর হয়ে উঠেছে। মেঘপরী আর মিষ্টি টিয়াপাখি সেই রঙিন আকাশের বুকে পিঠাপিঠি বসে খেলল। সেই থেকে আজও, যখনই বিকেলে আকাশটা সাতরঙে সেজে ওঠে, তখন ছোটরা বুঝতে পারে- আজ নিশ্চয়ই মেঘপরী আর মিষ্টি টিয়াপাখি আকাশ জুড়ে লুকোচুরি খেলছে। আর যারা খুব শান্ত হয়ে শোনে, তারা ওই রঙের ভেতর থেকে মিষ্টির গানও শুনতে পায়।




