রূপসী মাছ

অলংকরণ করেছেন রজত
ওদের বৈজ্ঞানিক নামটা খুব খটোমটো— সিংকিরোপাস স্প্লেন্ডিডাস! তবে ম্যান্ডারিন ফিশ নামেই বেশি পরিচিত। কারও কারও মতে, ওরাই নাকি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মাছ। ওদের গল্প শোনাচ্ছেন আরিফুল ইসলাম
১৯২৭ সালের কথা। আমেরিকার মৎস্যবিজ্ঞানী আলবার্ট উইলিয়াম হেয়ার তখন কাজ করতেন ফিলিপাইনে। সেখানেই একটি মাছের সঙ্গে সবাইকে প্রথমবারের মতো পরিচয় করিয়ে দিলেন। মাছটির নাম রাখলেন ‘ক্যালিয়োনিমাস স্প্লেন্ডিডাস’। পরে বৈজ্ঞানিক নাম হিসেবে প্রথম শব্দটি বদলে রাখা হয় ‘সিংকিরোপাস’।
ম্যান্ডারিন ফিশ নামে বেশি ডাকা হলেও এর রয়েছে আরও কিছু ডাকনাম। যেমন ম্যান্ডারিন ড্রাগোনেট, ম্যান্ডারিন গোবি, গ্রিন ম্যান্ডারিন ফিশ, স্ট্রাইপড ম্যান্ডারিন ফিশ, সাইকেডেলিক ফিশ ইত্যাদি। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ ভারত মহাসাগরের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকা থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে পশ্চিম ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত জলাঞ্চলে এ মাছের বসবাস। আকারে মাত্র ৩ ইঞ্চির মতো হয়ে থাকে। সারা শরীরে রঙ-বেরঙের বর্ণিল অলংকরণ। দিনের আলোতে খুব একটা উঁকিঝুঁকি দেয় না; লুকিয়ে থাকে জলজ গাছের ডালপালার আড়ালে। তবে সূর্যাস্তের সময় দলবেঁধে প্রবাল প্রাচীর থেকে বেরিয়ে আসে।
রঙে যেমন বর্ণিল, ঢঙেও কম নয় ওরা! বিশেষ করে খাবার খাওয়ার ব্যাপারে ভীষণ বাছবিচার করে। মূলত জলজ পোকা এবং ছোট ছোট খোলসধারী জলজ প্রাণী খেয়ে পেট ভরে। অন্যদিকে স্করপিয়ন ফিশ দেখলেই ওরা সাঁতরে পালায়। পালাবেই না কেন, ওই বিচ্ছু মাছগুলো যে ওদের বাগে পেলেই খেয়ে সাবাড় করে দেয়!
ভীরু ও লাজুক প্রকৃতির এই মাছ দলবেঁধে থাকতে পছন্দ করে। ওদের শরীরে কোনো আঁশ থাকে না। তার বদলে ত্বক থেকে একধরনের শ্লেষ্মা ছড়ায়, যা শিকারিদের দূরে রাখতে এবং পরজীবী থেকে নিজেদের বাঁচাতে সাহায্য করে। ওদের এমন বর্ণিল রঙ দেখে যারা ভাবছ, খেতেও সুস্বাদু হবে; তারা একদম ভুলের ঘোরে রয়েছ! এই মাছ ভুলেও খেতে যেও না; কেননা, এগুলো বিষাক্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।



