এল কাস্তিলোর ভুতুড়ে নারী

এল কাস্তিলো
বিকালের শেষ আলোটা ফিকে হয়ে আসতেই বদলে যেতে থাকে বাতাস। মায়া নগরী এল কাস্তিলোর পাথরের সিঁড়িগুলো হঠাৎ অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে ওঠে। ঠিক তখনই ওপরে, সিঁড়ির এক বাঁকে দেখা যায় তাকে। সাদা ধবধবে পোশাক, পিঠ বেয়ে নেমে এসেছে লম্বা কালো চুল। নিঃশব্দ পায়ে সে ধীরে ধীরে ওপরে ওঠে। কেউ কাছে যেতে চাইলে মুহূর্তের মধ্যে বাতাসে মিলিয়ে যায় সেই ছায়া শরীর।
মধ্য আমেরিকার দেশ বেলিজের স্যান ইগনাসিও শহরের কাছে মোপান নদী পেরিয়ে এই প্রাচীন শহর জুনানতুনিচ। স্থানীয় মায়া ভাষায় ‘জুনানতুনিচ’ শব্দের অর্থ পাথুরে নারী। আর এই পুরো রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু ৪০ মিটার উঁচু পিরামিড ‘এল কাস্তিলো’। খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে এটি ছিল এক সমৃদ্ধ কেন্দ্র, যা পরে খরার কারণে পরিত্যক্ত হয়। উনিশ শতকের শেষদিকে টমাস গেন নামের গবেষক এটি আবিষ্কার করেন।
তবে ইতিহাসের চেয়েও গা শিউরে ওঠা এর রহস্য। স্থানীয়দের দাবি, বহু বছর ধরে এই ধ্বংসস্তূপে এক নারীর অশরীরী আত্মা ঘুরে বেড়ায়। পর্যটকের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, হঠাৎ করেই পুরো জঙ্গলের পাখির ডাক, বাতাসের শব্দ একদম স্তব্ধ হয়ে যায়। তারপরই কাঁধের কাছে অনুভূত হয় কারও বরফশীতল দীর্ঘশ্বাস!
এক প্রত্নতাত্ত্বিক দলের অভিজ্ঞতা আজও স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘোরে। গভীর রাতে এল কাস্তিলোর চূড়া থেকে রক্তহিম করা এক কান্নার সুর ভেসে আসছিল। টর্চের আলো ফেলতেই তারা দেখেন, রক্তবর্ণ চোখে এক নারী নিচে তাকিয়ে অট্টহাসি হাসছে! ভয়ে তারা তড়িঘড়ি নামতে গেলে সিঁড়িতে অদৃশ্য এক শক্তি তাদের ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। একাধিক পর্যটক দাবি করেছেন, লালচে চোখ মেলে ছায়ামূর্তিটি পিরামিডের চূড়া থেকে একদৃষ্টে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে। অনেকে ছবি তুলতে গিয়ে ফ্রেমে কোনো মানুষের অবয়ব পাননি; পেয়েছেন কেবল এক বীভৎস ছায়া।
গবেষকরা একে মানসিক দৃষ্টিভ্রম বা লোককথা বললেও কেন শত শত বছর ধরে ভিন্ন ভিন্ন সময়ের মানুষ ঠিক একই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন— তার উত্তর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় মেলে না।




