বিশ্বকাপ ঘিরে হত্যা-আত্মহত্যা

পাবলো এসকোবার
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তখনকার অন্যতম শক্তিশালী দল ছিল কলম্বিয়া। বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে তারা আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল। এমনকি ফুটবল কিংবদন্তি পেলে পর্যন্ত ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, কলম্বিয়া শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
২২ জুন। প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। ৫৭ মিনিটে জন হার্কসের একটি নিচু ক্রস আটকাতে গিয়ে বল নিজের জালেই পাঠিয়ে দেন কলম্বিয়ার পাবলো এসকোবার। শেষ পর্যন্ত কলম্বিয়া হেরে যায় ২-১ গোলে। এই পরাজয়ের পর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। ম্যাচ শেষে এসকোবার ভেঙে পড়লেও দেশে ফেরার আগে একটি কলাম লেখেন, ‘জীবন এখানেই শেষ নয়। সামনে আরও ভবিষ্যৎ আছে।’ কী নির্মম পরিহাস! এর কয়েক দিন পর মেডেলিনের একটি নাইটক্লাবে কিছু লোক এসকোবারকে আত্মঘাতী গোল নিয়ে কটাক্ষ করে। এরপর ছয়টি গুলি করে তাকে হত্যা করে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রচলিত ট্র্যাজেডির গল্পটি সম্ভবত ১৯৫০ সালের ফাইনাল। রিও ডি জেনেইরোর মারাকান স্টেডিয়াম। ব্রাজিল ড্র করলেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত। কিন্তু উরুগুয়ে জিতে যায় ২-১ গোলে। পরাজয়ের পর পুরো ব্রাজিল স্তব্ধ হয়ে যায়। বহু বছর ধরে একটি গল্প প্রচলিত, পরাজয়ের পর স্টেডিয়ামেই বহু সমর্থক আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে ইতিহাসবিদরা আত্মহত্যার ঘটনার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাননি।
বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের পরাজয়ের পর রতন নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিকে ‘ব্রাজিল সমর্থকের আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে মৃত্যুর আসল কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
বিশ্বকাপ ঘিরে শুধু খুন বা আত্মহত্যা নয়, সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে বিশ্বকাপ চলাকালে মার্সেই শহরে ইংল্যান্ড ও তিউনিসিয়ার সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। শতাধিক মানুষ আহত হন।
১৯৭০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। প্রতিপক্ষ এল সালভাদর ও হন্ডুরাস। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই ছিল সীমান্ত, ভূমি ও অভিবাসন নিয়ে তীব্র বিরোধ। ফুটবল ম্যাচ সেই উত্তেজনাকে বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেয়। প্রথম ম্যাচের পর শুরু হয়
হামলা। দ্বিতীয় ম্যাচের পর সহিংসতা আরও বাড়ে। তৃতীয় ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হয় চার দিনের
যুদ্ধ। ইতিহাসে এটি ‘ফুটবল ওয়ার’ নামে পরিচিত।




