বিচিত্রা
ফুটবল মাঠ দিয়ে ছুটে যায় ট্রেন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
এমন ফুটবল স্টেডিয়ামের কথা শুনেছেন, যার ভেতর দিয়েই চলে যায় ট্রেন? অবিশ্বাস্য হলেও এমন মাঠ সত্যি আছে। পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন ইশতিয়াক হাসান
বিকালের আলো তখন ধীরে ধীরে নেমে আসছে পাহাড়ঘেরা ছোট্ট শহরটিতে। মাঠে চলছে ফুটবল ম্যাচ। গ্যালারিতে বসা দর্শক চোখ আটকে রেখেছেন বলের দিকে। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে আসে হুইসেলের শব্দ। কয়েক সেকেন্ড পরই দেখা যায়, স্টেডিয়ামের একপাশ দিয়ে নয়; মাঠের গা ঘেঁষে গ্যালারি আর খেলার জায়গার মাঝখান দিয়ে ধোঁয়া উড়িয়ে এগিয়ে আসছে একটি ট্রেন। আশ্চর্যের বিষয়, ট্রেন থামে না, খেলাও থামে না।
শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমন দৃশ্য নিয়মিত দেখা যায় স্লোভাকিয়ার ছোট্ট শহর চিয়েরনি বালোগে। দেশটির স্থানীয় ফুটবল ক্লাব টিজে তাতরান চিয়েরনি বালোগের মাঠকে বিশ্বের অন্যতম অদ্ভুত স্টেডিয়াম বলা হয়। কারণ, এর ভেতর দিয়েই চলে গেছে একটি ঐতিহাসিক রেলপথ। আর সেই পথে এখনো চলাচল করে বাষ্পীয় ইঞ্জিনচালিত পর্যটকবাহী ট্রেন।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে আশপাশের বনাঞ্চল থেকে কাঠ পরিবহনের জন্য নির্মিত হয়েছিল চিয়েরনোহরনস্কা রেলপথ। পরে যাত্রী পরিবহনও শুরু হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গুরুত্ব হারিয়ে রেলপথটি বন্ধ হয়ে যায়।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে একদল রেলপথপ্রেমী উদ্যোগ নিয়ে লাইনটি পুনরুদ্ধার করে। পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে আবার চালু হয় ঐতিহ্যবাহী এই রেলপথ। তখনই দেখা দেয় মজার এক বাস্তবতা। রেললাইন তো আগের জায়গাতেই আছে, আর তার ওপর দাঁড়িয়ে গেছে ফুটবল স্টেডিয়াম। ফলে ট্রেন চলবে, মাঠও থাকবে— দুইয়ের সহাবস্থানই হয়ে ওঠে সমাধান।
বর্তমানে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ঐতিহ্যবাহী রেলপথে গ্রীষ্ম মৌসুমে নিয়মিত পর্যটকবাহী ট্রেন চলাচল করে। লোয়ার তাতরা পর্বতমালার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে যাত্রীরা যখন স্টেডিয়ামের কাছে পৌঁছান, তখন অনেকেই ক্যামেরা প্রস্তুত রাখেন। কারণ, পৃথিবীতে এমন দৃশ্য দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না।
সূত্র: অডিটি সেন্ট্রাল, আটলাস অবস্কিউরা




