কানাডার মিন্টে বাংলাদেশের মুদ্রা

রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্ট
রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্ট ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি স্মারক মুদ্রা। বাংলাদেশের বেশ কিছু মুদ্রার জন্মও এখানে। রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্টে ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন জুবায়ের হোসেন
প্রথম কানাডায় আসার বছর কয়েক পরে প্রথমবারের মতো সুযোগ হলো, রাজধানী অটোয়ায় অবস্থিত রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্টের উৎপাদন কেন্দ্র ঘুরে দেখার। মিন্ট মানে টাকশাল।
প্রথমেই যেটি নজরে পড়ে তা হলো কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুর্গের মতো ভবনে তৈরি হয় কানাডাসহ কত দেশের মুদ্রা! প্রহরী বেশ হাসিমুখে আমাদের ভেতরে কোথায় কী করতে হবে, বুঝিয়ে দিল। ট্যুরের শুরু ও শেষ হয় একই জায়গায়— জাদুঘরের লাগোয়া শপ থেকে। প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড ৪৫ মিনিটে পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখায় আর গল্পের ছলে তুলে ধরে এর ইতিহাস আর মুদ্রা তৈরির কৌশল।
রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্ট প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৮ সালে। ১৯১১ সাল থেকে কানাডার অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে মুদ্রা তৈরি শুরু করে। রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্টের বৈশিষ্ট্য হলো এরা প্রচলনের মুদ্রা ছাড়াও সংগ্রহে রাখা এবং বিনিয়োগের জন্যও মুদ্রা প্রস্তুত করে। ১৯৮২ সালে তৈরি করা হয় বিশ্বের সর্বপ্রথম খাঁটি সোনার (৯৯.৯৯%) মুদ্রা!
কানাডার মুদ্রার এক পাশে (হেড) যুক্তরাজ্যের রাজা বা রানীর প্রতিকৃতি থাকে। এখানে একটি দেয়ালে সেসব মুদ্রার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। দোতলায় একটা হলওয়ের মতো, দুদিকে কাচ দিয়ে ঘেরা। আর নিচে মুদ্রার তৈরির দৈত্যাকৃতি যন্ত্রপাতি। সাপ্তাহিক কর্মদিবসে ঘুরতে গেলে নিচে সরাসরি দেখতে পাবেন মুদ্রা তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ। বেশিরভাগ অংশে অবশ্য ছবি তোলা নিষেধ।
একটি মুদ্রার নকশা তৈরির সূচনা থেকে শুরু করে সেটি মানুষের হাতে পৌঁছে প্রচলনে আসা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে যে অসাধারণ দক্ষতা, সূক্ষ্ম পরিকল্পনা এবং নিখুঁততার ছাপ রয়েছে, তা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো।
আজ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ তাদের প্রচলিত মুদ্রা তৈরির জন্য রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্টের ওপর ভরসা করে। অনেকেই জানেন না, বাংলাদেশের কিছু প্রচলিত ধাতব মুদ্রাও অতীতে কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্টে তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের মানুষের হাতে থাকা কিছু কয়েন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে কানাডায় তৈরি হয়ে দেশে এসেছে! বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের পাঁচ পয়সা, দশ পয়সা, পঁচিশ পয়সা, পঞ্চাশ পয়সা, এক টাকা এবং পাঁচ টাকার মুদ্রা তৈরি হয়েছে এখানে।
মা-বাবার কানাডায় ঘুরতে আসা উপলক্ষে অনেক দিন পর এবার আবার যাওয়া হয়েছিল মুদ্রার এই জাদুঘরে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের হাওয়া লেগেছিল রয়্যাল কানাডিয়ান মিন্টের উৎপাদনে। সেখানে সাজসাজ রব পড়ে গিয়েছিল। বিশ্বকাপ কর্নারে দেখতে পাবেন রঙিন ও সাধারণ ১ ডলার স্মারক কয়েন, পাঁচটি মুদ্রার বিশেষ সেট, বিশুদ্ধ স্বর্ণ ও রৌপ্যের সংগ্রহযোগ্য কয়েন এবং বিশেষ স্মারক কার্ড। প্রতিটি মুদ্রার নকশায় তুলে ধরা হয়েছে ফুটবল, বিশ্বকাপ ট্রফি, বিজয়ের আনন্দ এবং কানাডার আতিথেয়তা।





