এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬
প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস (মডেল প্রশ্ন ২)
- মাহাবুবা আখতার, প্রভাষক, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ পটুয়াখালী

সংগৃহীত ছবি
পূর্ববর্তী সংখ্যার পর)
সৃজনশীল প্রশ্ন-২
জীববিজ্ঞান ক্লাসের প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা কর্ডাটা পর্বের নটোকর্ডের রূপান্তর বোঝাতে নিচের সহজ তথ্যচিত্রটি প্রদর্শন করল:
[চিত্র: P] ──► ইউরোকর্ডাটা উপপর্ব
লার্ভা দশা: লেজে নটোকর্ড উপস্থিত থাকে।
পূর্ণাঙ্গ দশা: নটোকর্ড সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয় এবং দেহ টিউনিক আবরণে আবৃত থাকে।
👉 (মডেল: X)
[চিত্র: Q] ──► ভার্টিব্রাটা উপপর্ব
ভ্রূণ দশা: পৃষ্ঠীয় মধ্যরেখা বরাবর নটোকর্ড উপস্থিত থাকে।
পূর্ণাঙ্গ দশা: নটোকর্ড প্রতিস্থাপিত হয়ে শক্ত কশেরুকা বা মেরুদণ্ড গঠন করে।
👉 (মডেল: Y)
(ক) জ্ঞানমূলক: ট্যাক্সন (Taxon) কী?
(খ) অনুধাবনমূলক: ‘সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডেট’ — ব্যাখ্যা করো।
(গ) প্রয়োগমূলক: উদ্দীপকের ‘মডেল: X’ যে উপপর্বকে নির্দেশ করে, তার ৩টি প্রধান শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য একটি উদাহরণসহ (বৈজ্ঞানিক নাম) লেখো।
(ঘ) উচ্চতর দক্ষতামূলক: উদ্দীপকের ‘মডেল: Y’-এর নটোকর্ডটি রূপান্তরিত হয়ে যে নতুন কাঠামো গঠন করে, তার ওপর ভিত্তি করে উক্ত উপপর্বের উন্নত শ্রেণিগুলোর একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ দাও।
(ক) উত্তর:
শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত যেকোনো নির্দিষ্ট স্তর বা ধাপের জীবগোষ্ঠীকে একত্রে ট্যাক্সন (Taxon) বলা হয়। যেমন: কর্ডাটা (Chordata) একটি ট্যাক্সন।
(খ) উত্তর:
কর্ডাটা (Chordata) পর্বের প্রধান অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো— জীবনের যেকোনো দশায় (ভ্রূণাবস্থায় বা আজীবন) দেহের পৃষ্ঠমধ্যরেখা বরাবর নটোকর্ড নামক একটি নমনীয় দণ্ড উপস্থিত থাকবে।
মেরুদণ্ডী (Vertebrata) প্রাণীদের ভ্রূণাবস্থায় এই নটোকর্ডটি সুগঠিত থাকে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বয়সে এটি শক্ত, খণ্ডায়িত এবং অস্থিময় বা তরুণাস্থিময় মেরুদণ্ড (Vertebral column) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। যেহেতু মেরুদণ্ডী প্রাণীরা জীবনের শুরুর দিকে নটোকর্ড বহন করে, তাই তারা মূলত কর্ডাটা পর্বেরই অন্তর্ভুক্ত। এই গাঠনিক সম্পর্কের কারণেই বলা হয়— ‘সকল মেরুদণ্ডীই কর্ডেট’।
(গ) প্রয়োগমূলক প্রশ্নের উত্তর:
উদ্দীপকের ‘মডেল: X’-এর নটোকর্ডটি শুধু লার্ভার লেজে সীমাবদ্ধ থাকে এবং পূর্ণাঙ্গ দশায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই বৈশিষ্ট্যটি কর্ডাটা পর্বের ইউরোকর্ডাটা (Urochordata) উপপর্বকে নির্দেশ করে।
ইউরোকর্ডাটা উপপর্বের ৩টি প্রধান শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
১. টিউনিকের উপস্থিতি: এদের পূর্ণাঙ্গ বা প্রাপ্তবয়স্ক প্রাণীর দেহ সেলুলোজের মতো ‘টিউনিকিন’ নামক পদার্থে গঠিত ‘টিউনিক’ (Tunic) বা টেস্ট নামক শক্ত বহিঃকঙ্কাল দ্বারা আবৃত থাকে।
২. নটোকর্ডের বিলুপ্তি: এদের কেবল মুক্ত সাঁতারু লার্ভা দশার লেজে নটোকর্ড থাকে। পশ্চাৎমুখী রূপান্তরের (Retrogressive Metamorphosis) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নিশ্চল প্রাণীতে পরিণত হলে লেজের সাথে সাথে নটোকর্ডও সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
৩. সাইফন: এদের দেহের অগ্রভাগে পানি প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য যথাক্রমে ইনহ্যালেন্ট ও এক্সহ্যালেন্ট নামক দুটি সাইফন বা নালি থাকে।
উদাহরণ (বৈজ্ঞানিক নাম): Ascidia mentula
(ঘ) উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তর:
উদ্দীপকের ‘মডেল: Y’-এর নটোকর্ডটি পূর্ণাঙ্গ বয়সে শক্ত কশেরুকাযুক্ত মেরুদণ্ড (Vertebral Column) দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়, যা ভার্টিব্রাটা (Vertebrata) উপপর্বের প্রধান লক্ষণ।
নটোকর্ডের রূপান্তরের পর গঠিত মেরুদণ্ড এবং উন্নত চোয়ালের (Gnathostomata) উপর ভিত্তি করে এই উপপর্বের উন্নত প্রাণীগুলোকে প্রধানত ৫টি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা যায়। নিচে এদের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. অস্থিময় মৎস্যকুল (Actinopterygii): এদের অন্তংকঙ্কাল সম্পূর্ণ অস্থি দ্বারা গঠিত। দেহ সাইক্লয়েড বা টিনয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত থাকে এবং এরা আজীবন ফুলকার সাহায্যে পানিতে শ্বাস নেয়। এদের লেজ হোমোসার্কাল (সমান দুই অংশে বিভক্ত) প্রকৃতির। (যেমন: রুই মাছ, ইলিশ মাছ)।
২. উভচর (Amphibia): এরা মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে প্রথম জলজ পরিবেশ ছেড়ে ডাঙায় আসে। এদের ত্বক সিক্ত, নগ্ন ও গ্রন্থিময়। এদের জীবনচক্রে একটি জলজ লার্ভা (ব্যাঙাচি) দশা দেখা যায় এবং এরা ত্বক ও ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। (যেমন: কোলাব্যাঙ)।
৩. সরীসৃপ (Reptilia): এরা বুকে ভর দিয়ে চলাচল করে। এদের ত্বক শুষ্ক এবং এপিডার্মাল আঁইশ বা শক্ত প্লেট দ্বারা আবৃত। এদের আঙুলে নখর থাকে এবং এরা কেবল ফুসফুসের সাহায্যে শ্বাস নেয়। (যেমন: টিকটিকি, গোখরা সাপ)।
৪. পক্ষীকুল (Aves): ওড়ার উপযোগী অভিযোজনের জন্য এদের কঙ্কাল হালকা ও বায়ুপূর্ণ (Pneumatic) হাড় দিয়ে গঠিত। এদের দেহ পালক দ্বারা আবৃত, অগ্রপদ ডানায় রূপান্তরিত এবং চোয়াল দাঁতহীন চঞ্চুতে পরিণত হয়েছে। এরা উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী। (যেমন: দোয়েল, কবুতর)।
৫. স্তন্যপায়ী (Mammalia): এরা মেরুদণ্ডী জগতের সর্বোচ্চ বিবর্তিত ও উন্নত প্রাণী। এদের দেহে চর্মলোম থাকে এবং মায়েদের স্তনগ্রন্থি সক্রিয় থাকে, যার সাহায্যে তারা সন্তান লালন-পালন করে। এদের হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। (যেমন: মানুষ)।
পরিশেষে বলা যায়, নটোকর্ডটি মেরুদণ্ডে রূপান্তরিত হওয়ার পর প্রাণীর কঙ্কালতন্ত্র, শ্বসন প্রক্রিয়া ও রক্ত সংবহনের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে। এই উন্নত বৈশিষ্ট্যগুলোর বৈচিত্র্য ও গাঠনিক জটিলতার ওপর ভিত্তি করেই ‘মডেল: Y’-এর মেরুদণ্ডী প্রাণীদের এই সুনির্দিষ্ট উন্নত শ্রেণিগুলোতে সফলভাবে বিন্যস্ত করা সম্ভব হয়েছে।




