মানসিক চাপ কমাবেন যেভাবে

মডেল: অন্নি ইসলাম, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
মেডিটেশন বা ধ্যানের মূল কাজ হলো মনের সব এলোমেলো চিন্তা দূর করে যেকোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া। এর ফলে মনের ভেতরের অস্থিরতা কমে এবং শরীর ও মন দুটিই ভীষণ হালকা হয়ে যায়।
মেডিটেশন কেন করবেন?
- নতুন করে চিন্তা করার শক্তি বাড়ে এবং যেকোনো সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার সাহস তৈরি হয়।
- নিজের সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে এবং মানুষ বর্তমান সময়ে বাঁচতে শেখে।
- মনের ভেতরের নেতিবাচক আবেগ বা রাগ কমে যায়।
- কাজের প্রতি মনোযোগ এবং সৃজনশীলতা বাড়ে।
- শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃৎস্পন্দনের গতি স্বাভাবিক হয়।
- রাতে ঘুম ভালো হয়।
এমনকি মানসিক চাপের কারণে যেসব রোগ বেড়ে যায়, যেমন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, হাঁপানি, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, বিষণ্নতা, হৃদরোগ বা পেটের নানা সমস্যা, মেডিটেশন সেগুলোর লক্ষণ কমাতে বেশ সাহায্য করে।
মেডিটেশনের বিভিন্ন ধরন
গাইডেড মেডিটেশন: যেখানে আপনি কল্পনা করেন যে একটি শান্ত জায়গায় আছেন এবং সেই দৃশ্যটি আপনার মনকে শিথিল করে।
মন্ত্র মেডিটেশন: কোনো নির্দিষ্ট শব্দ বা বাক্য বারবার আওড়ানোর মাধ্যমে মনকে অন্য চিন্তা থেকে মুক্ত রাখা।
মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন: বর্তমান সময়ের ওপর পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। যেমন নিঃশ্বাসের আসা-যাওয়ার দিকে খেয়াল রাখা।
যোগব্যায়াম, তাই চি ও চিকং: শরীর ও মনের ভারসাম্যের জন্য শারীরিক ভঙ্গি ও নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসের সমন্বয়ে এই পদ্ধতিগুলো চর্চা করা হয়।
কীভাবে মেডিটেশন করবেন?
একটি জায়গা বেছে নিন। আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন বা শুয়ে পড়ুন। গভীর শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন। শ্বাস নেওয়ার সময় ফুসফুসকে ভালোভাবে প্রসারিত হতে দিন। অনুভব করুন আপনার শরীরের কোথায় ব্যথা বা উত্তেজনা আছে এবং সেটিকে শিথিল করার চেষ্টা করুন। হাঁটার সময়ও মেডিটেশন করা যায়। এর পাশাপাশি প্রার্থনা করা, প্রিয় কবিতা পড়া বা কোনো অনুপ্রেরণামূলক সংগীত শোনাও মেডিটেশনের অংশ হতে পারে।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক





