স্বাস্থ্য টিপস
কবজিতে বেশি চাপ দিয়ে কাজ করবেন না

কবজিতে ব্যথা, অবশ ভাব, ঝিঁঝিঁ অনুভূতি ও দুর্বলতা দেখা দিলে প্রাথমিকভাবে সেটিকে কারপাল টানেল সিন্ড্রোম (সিটিএস) বলে ধরে নেওয়া হয়। এটি কবজির স্নায়ুজনিত সমস্যা। ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের এ রোগ বেশি দেখা যায়। আকৃতিগত কারণে হাতের কবজি সরু হওয়ায় পুরুষের তুলনায় ৩ গুণ নারী এ রোগে আক্রান্ত হন।
কারপাল টানেল কী
হাতের তালুর মধ্যে থাকা একটি সরু পথকে বলা হয় কারপাল টানেল। কবজির ঠিক মাঝখানে অবস্থিত এই সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে চলে গেছে কবজি ভাঁজ করতে যতগুলো পেশি দরকার, সবগুলোর রগ ও কিছু স্নায়ু। এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু মিডিয়ান নার্ভ। কোনো কারণে এই টানেলে অনবরত চাপ পড়লে সিটিএস হয়ে থাকে।
কেন হয়
- বিশ্রাম না নিয়ে ক্রমাগত একই কাজ করলে রিপিটিটিভ স্ট্রেস পড়ে। এতে ইনজুরির আশঙ্কা থাকে।
- ক্রমাগত হাতের কবজির ওপর চাপ দিয়ে কাজ করলে, যেমন দীর্ঘক্ষণ রান্না, কিবোর্ডে টাইপিং বা অনেক ক্ষেত্রে মাউস
- ব্যবহারেও হাতের কবজির টানেলের ওপর চাপ পড়ে।
- কবজির ভেতরে টিউমার হলে কারপাল টানেল সিনড্রোম দেখা দিতে পারে।
- ট্রমা বা কবজির ফ্র্যাকচার হলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
- কিছু দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের এটি হতে পারে। রিউমাটেড
- আর্থ্রাইটিস থাকলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- কিছু ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় এবং মেনোপজে নারীদের এ সমস্যা দেখা দেয়।
উপসর্গ
- হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ও অন্য আঙুলগুলোয় অসাড়তা বা ঝিঁঝিঁ অনুভূতি।
- কবজি বা হাতে ব্যথা, যা কনুই পর্যন্ত হতে পারে।
- কোনো বস্তু কিছুক্ষণ ধরে রাখতে অসুবিধা।
- এক বা উভয় হাতের পেশির দুর্বলতা।
- ভারী বস্তু বহন করতে না পারা।
- কোনো কাজ করার সময় দুই হাতের স্বাভাবিক ছন্দ বা সমন্বয় না থাকা।
চিকিৎসা
ব্যথানাশক ওষুধ, ফিজিওথেরাপি বা অপারেশনের মাধ্যমে সিটিএস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ওষুধ ও ফিজিওথেরাপিতে কাজ হলেও গুরুতর পর্যায়ে অপারেশন না করলে সঠিক ফল মেলে না।
লেখক: হ্যান্ড, মাইক্রোসার্জারি ও অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র






