মানবিক আবেদন
ফুটফুটে সন্তানের জন্য মায়ের হাহাকার

ইব্রাহিম তাহমিদের বয়স এখন সাত মাস। তাকে নিয়ে আশায় বুক বাঁধছিলেন মা তাসলিমা সুলতানা, যিনি পেশায় ইন্টার্ন ডাক্তার। কিন্তু জন্মের পর জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছিল ইব্রাহিম। ফটোথেরাপি দেওয়ার পর চোখের হলদেটে ভাব সাদা হয়ে যাওয়ায় সবাই ভেবেছিল, সুস্থ হয়ে গেছে সে। তখনো জানা ছিল না, সেটি কোনো সাধারণ জন্ডিস নয়, বরং ছিল এক প্রাণঘাতী রোগের সংকেত। একদিন মা খেয়াল করলেন শিশুটির চোখ আবারও হলুদ হচ্ছে। এরপর পেডিয়াট্রিক সার্জন ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে জানা গেল, জন্মগতভাবেই ওর পিত্তনালিতে ব্লক রয়েছে। এ রোগে আক্রান্তদের শরীর থেকে বিলিরুবিন বের হতে পারে না, তাই ধীরে ধীরে লিভার অকেজো হয়ে যায়। এর একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা হলো লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট।
বয়স তিন মাস পেরোনোর পর কাসাই সার্জারি করা হলো ইব্রাহিমের। এর মাধ্যমে শিশুদের ব্লক হয়ে যাওয়া বা অনুপস্থিত পিত্তনালি অপসারণ করে, লিভার থেকে পিত্তরস সরাসরি ছোট অন্ত্রে যাওয়ার জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করা হয়। যদিও এ অস্ত্রোপচার দু-তিন মাসের মধ্যে করা হলে সফলতার হার বেশি; ইব্রাহিমের জন্য তা করা হয়েছিল কিছুটা সময়ক্ষেপণের জন্য, যাতে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পাওয়া যায়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের সাত দিন পর থেকেই ফুটফুটে এই শিশু আক্রান্ত হয় তীব্র জ্বরে, যা আজও চলছে। সে ভুগছে কোলেঞ্জাইটিসে, যার ফলে লিভারে বারবার ইনফেকশন হচ্ছে। এখন আর মুখের ওষুধ কাজ করে না; প্রতিবার ক্যানোলার মাধ্যমে ইনজেক্টেবল অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয় তাকে।
উন্নত চিকিৎসার আশায় ওকে পাশের দেশে নিয়ে গেছেন বাবা-মা। কিন্তু দিন দিন স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। এরই মধ্যে দুবার আইসিইউতে নিতে হয়েছে ওকে। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, দ্রুত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট না করা গেলে ইব্রাহিমকে বাঁচানো অসম্ভব। লিভারের ব্যবস্থা হয়েছে; ডোনারের টেস্ট এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টও প্রস্তুত। অপেক্ষা অস্ত্রোপচারের। হাতে সময় আছে আনুমানিক এক থেকে দেড় মাস। এ অপারেশন শুরু করতেই প্রয়োজন বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০ লাখ টাকা। এরপর সব মিলিয়ে কমপক্ষে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা দরকার, যা কোটির ঘরও পেরিয়ে যেতে পারে।
ফুটফুটে এই শিশুর জীবন বাঁচাতে সাহায্য চেয়েছেন তার মা।




