বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে সময় লাগে

কোপেনহেগেনের একটি পার্কে লেখক
বিদেশে পড়তে আসার অভিজ্ঞতা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ কিংবা একটি ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। নতুন দেশে এসে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও অনেক কিছু শেখা যায়। মানুষের সঙ্গে কথা বলা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, নিজের খরচ সামলানো কিংবা কাজের ফাঁকে নিজের জন্য একটু সময় বের করা— সবকিছুই হয়ে ওঠে শিক্ষার অংশ।
ডেনমার্কের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ধরন বেশ আলাদা। সাধারণত একটি ক্লাসের প্রথম দুই ঘণ্টায় তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিরতির পরের অংশে সেই জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ, সমস্যা সমাধান কিংবা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে শেখার সুযোগ থাকে। ফলে শুধু মুখস্থ করে পরীক্ষায় ভালো করা কঠিন।
ডেনমার্কে সম্পর্ক গড়ে ওঠার ধরন কিছুটা আলাদা। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের সঙ্গে পড়াশোনা, গ্রুপওয়ার্ক ও অ্যাকাডেমিক কাজের মধ্য দিয়ে ভালো যোগাযোগ তৈরি হলেও ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে সময় লাগে। ইংরেজি জানলেও তারা নিজেদের ভাষায় বেশি স্বচ্ছন্দ। ফলে ভাষা না জানলে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া কিছুটা কঠিন হতে পারে।
অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইংরেজিতে যোগাযোগ করে বন্ধুত্ব তৈরি করা তুলনামূলক সহজ হলেও স্থানীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার প্রয়োজন হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি আমি একটি আর্মি ক্যানটিনে খণ্ডকালীন কাজ করি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা ও কাজের মধ্যে সময় ভাগ করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কাজের সময় সীমিত হওয়ায় কোন কাজকে কতটা সময় দেওয়া যাবে, তা নিয়ে সচেতন থাকতে হয়।
একবার ক্যানটিনের এক ডেনিশ শেফ আমাকে বলেছিলেন, বাংলাদেশিরা খুব ভালো কাজ করেন। তার এই মন্তব্য আমাকে বেশ উৎসাহিত করেছিল।
ডেনমার্কে পড়তে আসার আগে আর্থিক দিকটি ভালোভাবে বিবেচনা করা জরুরি। শুধু এক সেমিস্টারের টিউশন ফি দিয়ে এসে পরে খণ্ডকালীন কাজ করে বাকি ফি জোগাড় করার পরিকল্পনা ঝুঁকিপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের কাজের সময় সীমিত, আর সেই আয় দিয়ে পুরো টিউশন ফি বহন করা কঠিন হতে পারে। তাই পড়াশোনার খরচ ও দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।
লেখক: আইটি ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনে মাস্টার্স করছেন



