ভিডিওতে উচ্চশিক্ষার পরামর্শ দেন তাহমিদ

প্রায় ১০০টি ভিডিও বানিয়েছেন সৈয়দ তাহমিদ হোসেন। ছবি: ফেসবুক
পড়ালেখা করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। ক্যাম্পাস জীবনের শুরু থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাবেন— এমনটাই আশা ছিল তার। ফলে প্রথম বর্ষ থেকে সিজিপিএ ৩.৫-এর ওপরে রাখার চেষ্টা করেছেন। চতুর্থ বর্ষে উঠে জিআরই ও আইইএলটিএসের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন। সেখানেও ভালো করেছেন। এই গল্প সৈয়দ তাহমিদ হোসেনের। স্নাতক সম্পন্ন করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ইমেইল করতে শুরু করলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তাকে ফিরতি ইমেইল পাঠালেন। তারপর তিনি চলে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রে। তার পরিবার এই সাফল্যে ভীষণ খুশি। এই প্রথম তাদের কেউ বিদেশে পড়ালেখা করতে যাচ্ছে।
তাহমিদ মাস্টার্সের পড়ালেখা শুরু করলেন জর্জিয়া সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে। এখন তিনি শিকাগোর একটি প্রতিষ্ঠানে জিও-টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। কেমন চলছে চাকরিজীবন— এ প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘এখানে প্রকৌশল পেশার ক্ষেত্রগুলো দিন দিন বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রতিনিয়ত দক্ষ প্রকৌশলীর প্রয়োজন হয়। এ দেশে আছে পেশার যথার্থ মূল্যায়ন, সম্মান; আছে ক্যারিয়ার গড়ার সঠিক নিয়ম ও সুযোগ।’
যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করে চলেছেন তিনি
যারা বিদেশে পড়ালেখার জন্য যেতে চান, তাদের জন্য সৈয়দ তাহমিদ হোসেনের পরামর্শ— ফল প্রথম শ্রেণি বা ৩.৫ সিজিপিএর ওপর রাখতে হবে। আইইএলটিএসে অন্তত ৭ এবং ইংলিশ স্পিকিংয়ে ৬.৫ পেতে হবে। এখানে কম পেলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্সশিপ পাওয়া যায় না। ফল ৩.২ সিজিপিএর আশপাশে থাকলে জিআরই দেওয়া ভালো; তবে ৩.৫ সিজিপিএর ওপর থাকলে জিআরই ছাড়াই উচ্চশিক্ষার জন্য ফান্ডিং পাওয়া যায়। প্রকাশিত গবেষণাপত্র থাকা জরুরি নয়। তবে একটি-দুটি জার্নালে লেখা বা কনফারেন্স পেপার থাকলে ফান্ডিং পাওয়ার সুযোগ বেড়ে যায়।
প্রস্তুতির বিষয়ে সৈয়দ তাহমিদ হোসেন বললেন, একটি চার্ট তৈরি করতে পারলে ভালো। সেখানে নিজের পছন্দের বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম, অধ্যাপকদের নাম ও ইমেইল আইডি রাখতে হবে। তালিকা ধরে অধ্যাপকদের ইমেইল করতে হবে। তাহলে কাজটি সহজ হয়ে যায়। এভাবে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করে চলেছেন তাহমিদ। তিনি তাদের জন্য নিয়মিত ভিডিও বানান। অনেকেই তাকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেন; সেগুলোর উত্তর এবং নিজের পরামর্শ তিনি ভিডিওগুলোতে উপস্থাপন করেন। এতে যেমন তার সময় সাশ্রয় হয়, তেমনি উচ্চশক্ষা বিষয়ে নানা প্রশ্নের জবাব মেলে। তিনি এ পর্যন্ত ১০০-এর মতো ভিডিও বানিয়েছেন। তার ভিডিওর লিংক: https://www.facebook.com/share/v/1DbhaRDdtb।




