বিউটি
লিপস্টিকের বাইরে লিপ লুক

মডেল: সিদরাতুল মুনতাহা ওহী, সাজ: অরা বিউটি লাউঞ্জ, পোশাক: কে ক্র্যাফট, ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
লিপস্টিক ব্যবহার না করেই গ্লস, টিন্ট আর নানা কৌশলে ঠোঁটের ঠাটবাট করার কায়দা জানাচ্ছেন তুলি রহমান
লিপস্টিকের একচ্ছত্র আধিপত্য আর নেই; প্রসাধনের ধরন ও প্রয়োগের কৌশলে বদলে যাচ্ছে ঠোঁট সাজানোর চেনা ধারণা।
গ্লসি লুকে ঝিলমিল: এই লুকের মূল আকর্ষণ হলো ঠোঁটে কাচের মতো চকচকে আভা। স্বচ্ছ থেকে শুরু করে গোলাপি, পিচ কিংবা বাদামি আভাযুক্ত লিপ গ্লস— সবই মানানসই। ঠোঁটের মাঝখানে একটু বেশি গ্লস ব্যবহারে আলো প্রতিফলিত হয়ে ঠোঁট তুলনামূলক ভরাট দেখায়। দিনের সাজে হালকা গ্লস আর সন্ধ্যার আয়োজনে একটু বেশি ঝিলমিলে আভা বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে গ্লসের পরিমাণ বেশি হলে তা ছড়িয়ে ঝুঁকি থাকে। তাই প্রথমে অল্প ব্যবহার করে প্রয়োজনমতো বাড়ানো ভালো।
লিপ টিন্টে রঙের ছোঁয়া: ঠোঁট গাঢ় রঙের বদলে হালকা আভা পছন্দ হলে লিপ টিন্ট হতে পারে পছন্দের প্রসাধন। গোলাপি, পিচ, বেরি কিংবা ইটের লাল— বিভিন্ন রঙের টিন্ট থেকে বেছে নিতে পারেন পছন্দটি। ঠোঁটের মাঝখানে কয়েক ফোঁটা টিন্ট দিয়ে আঙুল বা ছোট ব্রাশের সাহায্যে চারদিকে ছড়িয়ে দিলেই তৈরি হবে স্বাভাবিক রঙের আভা। চাইলে এর ওপর স্বচ্ছ গ্লসও মেশাতে পারেন। তবে টিন্ট ঠেঁাট শুষ্ক করায় আগে লিপবাম ব্যবহার করতে হবে।
ব্লারড লিপ লুকে স্নিগ্ধতা: ঠেঁাটের কিনারায় স্পষ্ট রেখা নেই, রঙও খুব গাঢ় নয়— এমন কোমল সাজ এটি। এক্ষেত্রে ঠেঁাটের মাঝখানে টিন্ট বা কোমল টেক্সচারের লিপ কালার দিয়ে আঙুলের ডগার সাহায্যে বাইরের দিকে আলতো ছড়িয়ে দিতে হয়। রঙের সীমানা স্পষ্ট না রেখে মিশিয়ে দেওয়াই এ সাজের বিশেষত্ব। এতে ঠেঁাটে তৈরি হয় রঙ ছড়িয়ে থাকা স্নিগ্ধ আভা। চোখের সাজ হালকা রেখে চুল স্বাভাবিকভাবে সাজালে এ লুকের সৌন্দর্য আরও বাড়ে।
ওম্ব্রে লিপসে মেলবন্ধন: একই ঠেঁাটে দুটি রঙের মেলবন্ধন ওম্ব্রে লিপ লুকের বৈশিষ্ট্য। সাধারণত ঠেঁাটের ভেতরের দিকে গাঢ় এবং বাইরের দিকে হালকা রঙ রাখা হয়। লিপ লাইনার ও টিন্ট ব্যবহার করে সহজেই এ সাজ সম্পন্ন করা সম্ভব। প্রথমে ঠেঁাটের কিনারায় পছন্দের রঙের লাইনার দিয়ে রেখা টেনে ভেতরের দিকে কিছুটা রঙ ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর মাঝখানে তুলনামূলক গাঢ় টিন্ট ব্যবহার করে দুই রঙ আলতোভাবে মিশিয়ে দিতে হয়। চাইলে মাঝখানে সামান্য গ্লস যোগ করতে পারেন। তবে রঙের পার্থক্য খুব বেশি না রাখাই ভালো।
লিপ লাইনারে পূর্ণতা: লিপ লাইনারের ব্যবহার লিপস্টিকের সীমানা আঁকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ঠেঁাটের স্বাভাবিক রঙের কাছাকাছি লাইনার দিয়ে পুরো ঠেঁাটে হালকা করে রঙ ভরাট করা যায়। এরপর আঙুল বা ব্রাশ দিয়ে রঙ মিশিয়ে নিলে তৈরি হবে ম্যাট ধরনের লুক। বাদামি, গোলাপি-বাদামি কিংবা মভ রঙের লাইনার এক্ষেত্রে ভালো বিকল্প। ঠেঁাটের প্রাকৃতিক রেখা অনুসরণ করে আঁকলে সাজটি দেখাবে পরিপাটি। চাইলে মাঝখানে স্বচ্ছ গ্লস দিয়ে ম্যাট ও গ্লসির মিশ্রণ তৈরি করতে পারেন।
লিপ অয়েলে মসৃণতা: লিপ অয়েল ঠেঁাটে আর্দ্রতার অনুভূতি ও মৃদু চকচকে আভা দেয়। লিপ গ্লসের তুলনায় অনেক লিপ অয়েলের গঠন হালকা ও পিচ্ছিল। এ পণ্য স্বাভাবিক রঙ বজায় রেখেই ঠেঁাট করে তোলে উজ্জ্বল। স্বচ্ছ কিংবা হালকা গোলাপি, পিচ ও বেরি রঙের লিপ অয়েল বেছে নিতে পারেন। ঠেঁাটের মাঝখান থেকে দুই পাশে ছড়িয়ে ব্যবহার করলে আভা সমান থাকবে। যারা ভারী মেকআপ পছন্দ করেন না, তাদের দৈনন্দিন সাজে এটি মানানসই হতে পারে।
লিপ বাটারে পরিচর্যা: সাজ সুন্দর দেখাতে ঠেঁাটের আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি। লিপ বাটার ঠেঁাট কোমল রাখতে সাহায্য করে। শুষ্ক ঠেঁাটে এর ব্যবহার অস্বস্তি কমায় এবং ঠেঁাটের ওপর মসৃণ আবরণ তৈরি করে। ঘুমানোর কিংবা মেকআপের আগে লিপ বাটার ব্যবহার করা যায়। মেকআপ শুরুর আগে অতিরিক্ত বাটার টিস্যু দিয়ে আলতোভাবে তুলে নিলে ঠেঁাটে অন্য প্রসাধন ভালোভাবে বসবে।
ন্যাচারাল লিপ লুক: প্রসাধন ছাড়াই ঠেঁাট সতেজ দেখানোর জন্য এটি দারুণ বিকল্প। এক্ষেত্রে ঠেঁাটের স্বাভাবিক রঙ ও গঠন গুরুত্ব পায়। ঠেঁাট পরিষ্কার করে সুগন্ধিবিহীন লিপবাম প্রয়োগ করতে হবে। বাইরে বেরোনোর সময় সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষায় এসপিএফযুক্ত লিপবাম ব্যবহার করা ভালো। ঠেঁাটের শুষ্ক চামড়া টেনে তোলা কিংবা ঘন ঘন জিভ দিয়ে ঠেঁাট ভেজানোর মতো বদভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে।



