কেনাকাটা
কোথায় কী পাবেন

মডেল: স্নেহা; ছবি: সাজ্জাদ হোসেন
উৎসব জমে ওঠে কেনাকাটার মধ্য দিয়ে। তবে আগেই জানা চাই কোথা থেকে কী কিনবেন, কেমন বাজেট রাখবেন। লিখেছেন তুলি রহমান
পূজা মানেই নতুন পোশাকের গন্ধ, গয়নার ঝিলিক আর প্রিয়জনের হাতে তুলে দেওয়া ছোট্ট উপহার। কেনাকাটার তালিকা যতই বড় হোক, বাজেটের হিসাব ঠিক থাকলে উৎসবের আনন্দে ভাটা পড়ে না। তাই কেনার আগে পছন্দ, প্রয়োজন আর বাজেট— তিনটাকেই মিলিয়ে নিন।
বাজেট বুঝে: কেনাকাটার আগে প্রয়োজন আর পছন্দের জিনিস আলাদা করে তালিকা করুন। কোন পোশাকের সঙ্গে কোন গয়না, জুতা বা ব্যাগ মানাবে— সেটিও আগে ঠিক করা ভালো। একই ধরনের একাধিক না কিনে এমন পোশাক বেছে নিন, যা পরে অন্য সময়ও পরা যাবে। উপহার কেনার ক্ষেত্রে আগে প্রাপকের পছন্দ ও প্রয়োজন ভেবে নিন। দোকানে গিয়ে হঠাৎ পছন্দ হওয়া পণ্য কেনার বদলে তালিকা ধরে কেনাকাটা করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সহজ হবে। কেনার আগে কয়েকটি দোকান ঘুরে মান ও দাম মিলিয়ে দেখুন। আর উৎসবের শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা আগেই সেরে রাখুন।
শাড়ির বাজার: পূজার সাজে শাড়ির আবেদন বরাবরের। এবারও জামদানি, কাতান, সিল্ক, তসর, তাঁত ও ব্লক প্রিন্টের সংগ্রহ দেখা যাচ্ছে বিপণিবিতানগুলোতে। রাজধানীর নিউ মার্কেটসংলগ্ন গাউছিয়া ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে বিভিন্ন দামের শাড়ি পাওয়া যায়। নিউ মার্কেট এলাকার বাজারদর অনুযায়ী, সাধারণ জামদানি প্রায় ৩ হাজার, কাতান ও সিল্ক ৩ হাজার, তসর ৩ হাজার এবং লিনেন ও ব্লক প্রিন্টের শাড়ি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হতে পারে। নকশা, কাপড়ের মান ও কাজের ধরন অনুযায়ী বাড়তে পারে দাম।
কেনার সময় পণ্যের মেয়াদ, মোড়ক ও সিল দেখে নেওয়া জরুরি
গয়নায় উৎসবের ঝিলিক: পোশাকের সঙ্গে গয়নায় আনতে পারেন একটু বৈচিত্র্য। টেরাকোটা, অক্সিডাইজড, কাঠ, মাটি, সুতা, পুঁতি কিংবা কৃত্রিম পাথরের অলংকার পূজার সাজে মানিয়ে যায় সহজেই। গাউছিয়া ও নিউ মার্কেট এলাকায় কম বাজেটের গয়নার বেশ ভালো সংগ্রহ পাওয়া যায়। সাধারণ কানের দুল, চুড়ি বা আংটির দাম শুরু শ’কয়েক টাকা থেকে। নকশা, উপকরণ ও কাজের ধরন অনুযায়ী দাম বাড়বে।
পুরুষ ও শিশুর পোশাক: পূজার পোশাকে পুরুষদের জন্য পাঞ্জাবি ও কুর্তা বরাবরই জনপ্রিয়। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে পাঞ্জাবি পাওয়া যায়। শিশুদের জন্য পাঞ্জাবি, ফ্রক, লেহেঙ্গা কিংবা নানা ধরনের পোশাক মিলবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে। মিরপুর, গাউছিয়া, নিউ মার্কেট, বেইলি রোডসহ বড় বিপণিবিতানেও সব বয়সীর জন্য দেশি পোশাকের নানা সংগ্রহ রয়েছে।
জুতা, ব্যাগ ও প্রসাধনী: পূজার দিনগুলোতে ঘোরাঘুরি বেশি, তাই জুতা কেনার সময় সৌন্দর্যের পাশাপাশি আরামকেও গুরুত্ব দিন। শাড়ির সঙ্গে ফ্ল্যাট, মুজারি কিংবা নিচু হিলের জুতা যেমন আরামদায়ক; তেমনি ছোট স্লিং ব্যাগে প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা যায়। কম বাজেটে নিউ মার্কেট, গাউছিয়া ও এলিফ্যান্ট রোডে জুতা-ব্যাগের নানা সংগ্রহ মিলবে। প্রসাধনীর ক্ষেত্রে উৎসবের আগে প্রয়োজনীয় আলতা, কাজল, লিপস্টিক, কমপ্যাক্ট, ব্লাশ ও নেইলপলিশ কিনে নিতে পারেন। নিউ মার্কেট ও গাউছিয়া এলাকায় বিভিন্ন দামের প্রসাধনী পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর জন্য বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বড় বিপণিবিতান বেছে নিতে পারেন। কেনার সময় পণ্যের মেয়াদ, মোড়ক ও সিল দেখে নেওয়া জরুরি।



