ফাইনালের আগে মেসিকে ‘বেঁধে রাখার’ দাবিটি কি সত্যি

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশ সময় গত ২০ জুলাই মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল। রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে স্পেন। তবে ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ‘ফাইনালের আগের রাতে Leo Messi কেন বেঁধে রাখছিল’ শীর্ষক একটি ক্যাপশন যুক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবির সাথে দৃশ্যমান ভিডিওটির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনাকারী স্লোভেনীয় রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের ২০২০ সালে পুলিশি অভিযানে আটক হওয়ার একটি পুরোনো ফুটেজকে বিকৃত দাবিতে অপপ্রচার করা হচ্ছে।
মূল ভিডিওর উৎস ও ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বিবরণ
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে ‘Uno San Luis’ লেখা একটি জলছাপ বা ওয়াটারমার্ক লক্ষ্য করা যায়। উক্ত সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালানো হলে মেক্সিকো থেকে পরিচালিত ‘Uno San Luis’ নামক একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মূল ভিডিওটির সন্ধান পাওয়া যায়।
অ্যাকাউন্টটিতে প্রকাশিত ভিডিওটির ক্যাপশনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় যে, ফুটেজটি ২০২০ সালের। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় একটি পার্টিতে মাদক ও পতিতাবৃত্তি বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের আটক হওয়ার দৃশ্য ছিল এটি। ওই সময় ঘটনার ব্যাখ্যায় ভিনচিচ জানিয়েছিলেন, তিনি বসনিয়ার বিজেলজিনা শহরে একটি ব্যবসায়িক মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণে যোগ দিতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে অভিযানের কবলে পড়েন। পরবর্তীতে সাক্ষী হিসেবে ভিনচিচকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রমাণ
ঘটনাটি নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করা হলে তৎকালে একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্রিটিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনগুলোতেও স্পষ্ট করা হয় যে, প্রচারিত দৃশ্যটি রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনার।
সামগ্রিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালের আগের রাতে লিওনেল মেসিকে বেঁধে রাখার দৃশ্য’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ২০২০ সালে স্লোভেনিয়ার ফুটবল রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের আটক হওয়ার পুরোনো একটি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অলীক ও বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়ানো হচ্ছে।






