২০০ বছরের পুরোনো বটগাছ কাটার দাবিটি বিভ্রান্তিকর

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ‘@Crazyunfill94’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়— ‘বাংলাদেশে উগ্রপন্থীরা ইসলাম অনুযায়ী এটিকে ‘শিরক’ ও ‘বিদআত’ আখ্যা দিয়ে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি বটগাছ কেটে ফেলেছে। বাংলাদেশে উগ্রপন্থী মতাদর্শ এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে যে অমুসলিমরা ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং তাদের ওপর হিজাব ও বোরকা পরার চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। প্রচারিত ভিডিওটি ২০২৫ সালের মে মাসে মাদারীপুরে ঘটে যাওয়া একটি সাধারণ ও নিজস্ব জমি পরিষ্কারের ঘটনা। প্রকৃত ঘটনা গোপন করে ব্যক্তিগত জমির গাছ কাটার দৃশ্যকে বিভ্রান্তি ছড়াতে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় রঙ দিয়ে প্রকাশ করা হচ্ছে।
মূল ঘটনা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ চালানো হলে অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’-এ প্রকাশিত একটি সংবাদের সন্ধান পাওয়া যায়। ‘শিরক’ আখ্যা দিয়ে বটগাছ কর্তন: মালিক বললেন, ‘বিক্রি করে দিয়েছি’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গাছটির মালিকের সরাসরি বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
জমির মালিক সাত্তার হাওলাদার জানান, তিনি তাঁর নিজস্ব মালিকানাধীন জমিতে বসতবাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করছিলেন এবং বেশ কিছুদিন ধরেই জমিতে থাকা গাছটি বিক্রি করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু গাছটি কাটার খরচ অনেক বেশি হওয়ায় তিনি এটি অল্প দামে স্থানীয় 'শ্রীনদী বায়তুস সুন্নাত ক্যাডেট মাদ্রাসা'-র কাছে বিক্রি করে দেন।
শ্রীনদী বায়তুস সুন্নাত ক্যাডেট মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মাতব্বরও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গাছটি কেনে এবং খরচ বাঁচাতে মাদ্রাসার নিজস্ব কর্মচারীদের দিয়েই গাছটি কাটার ব্যবস্থা করা হয়। সেই সাধারণ প্রক্রিয়ার ভিডিওটি পরবর্তীতে অনলাইনে ছড়িয়ে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা হয়।
গাছের বয়স ও বন কর্মকর্তার বক্তব্য
ঘটনাটির বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গাছটির বয়স ছিল আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর। ফলে এক্স পোস্টে দাবি করা ‘২০০ বছরের পুরোনো বটগাছ’ কাটার তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো ব্যক্তি তাঁর নিজস্ব ব্যক্তিগত জমিতে থাকা গাছ বিক্রি করার বা কেটে ফেলার পূর্ণ আইনি অধিকার রাখেন। এখানে কোনো প্রকার উগ্রপন্থী হামলা বা জোড় জবরদস্তির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও দাপ্তরিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, এক্স-এ ছড়ানো দাবিটি বিভ্রান্তিকর। বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য জমির মালিকের নিজস্ব গাছ বিক্রির একটি সাধারণ স্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসল তথ্য আড়াল করা হয়েছে। এরপর সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।





