মানিকগঞ্জে কিশোর শিহাবের মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রোফাইল থেকে একটি ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে— ‘ছাত্রলীগ এর এক্টিভিস্ট শিহাব হোসেন কে হত্যা করে শহীদ মিনারে ঝুলিয়ে রাখে জঙ্গি সংগঠন জামাতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও বিএনপির সশস্ত্ররা।।’
একই ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকেও দাবি করা হচ্ছে— ‘ছাত্রলীগ কর্মী শিহাবকে হত্যার পর শহীদ মিনারে ঝুলিয়ে রেখেছে জামাত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা’।
এমনকি ইনস্টাগ্রামেও ‘ছাত্রলীগ কর্মী শিহাবকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে শহীদ মিনারে... মনে রেখো বাংলাদেশ ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়’—এমন নানা আবেগঘন ও রাজনৈতিক ক্যাপশনে তথ্যটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মানিকগঞ্জে এক কিশোর দোকান কর্মচারীর অনাকাঙ্ক্ষিত অপমৃত্যুর ঘটনাকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
মূল ঘটনা ও গণমাধ্যমের তথ্য
প্রাসঙ্গিক বিষয়ভিত্তিক কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের একাধিক মূলধারার সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের সত্যতা পাওয়া যায়। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত কিশোরের নাম শিহাব হোসেন (১৫)। সে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড মাছবাজারের মনির হোসেন নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত শনিবার নৌকায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য মায়ের কাছে টাকা চেয়েছিল শিহাব। কিন্তু মা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সে অভিমান করে রাতের বেলায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরপর পরিবার তার আর কোনো খোঁজ পাচ্ছিল না। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, কিশোরটির মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ কিংবা কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্ত ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও পুলিশসহ পরিবারের বক্তব্য বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘ছাত্রলীগ করার অপরাধে শিহাবকে হত্যা করে শহীদ মিনারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে’ সংক্রান্ত দাবিটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। মায়ের ওপর অভিমান করে নিখোঁজ হওয়া এক কিশোরের অপমৃত্যুর ঘটনাকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে ভিন্ন রূপ দিয়ে অনলাইনে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।








