অসমের ধর্ষণের আসামিদের ‘বাংলাদেশি’ বলে অপপ্রচার

ছবি: আগামীর সময়
ভারতের ‘@airfilter32’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ৯ আগস্ট একটি সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট পোস্ট করা হয়। প্রতিবেদনটি ছিল অসমের কাছাড় জেলায় মিজোরামের দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে গণধর্ষণের শিকার হওয়া সংক্রান্ত। স্ক্রিনশটটির সঙ্গে পোস্টকারী দাবি করেন যে, এই অপরাধটি ‘তিনজন অবৈধ বাংলাদেশি পুরুষ’ দ্বারা সংগঠিত হয়েছে এবং তিনি অভিযুক্তদের ‘আমজাদ হোসেন লস্কর, সাদ্দাম এবং রিঙ্কু আলী’ হিসেবে শনাক্ত করেন।
তবে তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, এই দাবিটি মিথ্যা। পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত তিন অভিযুক্তকেই অসমের কাছাড় জেলার স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করেছে।
আসল ঘটনা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
ভারতের গণমাধ্যম— যার মধ্যে ‘নিউজ১৮’ (News18) ও ‘হিন্দুস্তান টাইমস’ (Hindustan Times) রয়েছে— এবং অসম পুলিশের অফিসিয়াল বক্তব্য নিশ্চিত করে যে, এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তিন অভিযুক্তই অসমের কাছাড় জেলার স্থানীয় বাসিন্দা। তারা হলেন; রাজনগরের আমজাদ হোসেন লস্কর (২০), ভাঙা বাজারের সাদ্দাম হোসেন লস্কর (২৩) এবং খাসপুরের রিঙ্কু দাস (২৫)।
পুলিশ বা মূলধারার কোনো গণমাধ্যমই অভিযুক্তরা বাংলাদেশ থেকে এসেছে বা ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছে বলে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
যদিও 'নর্থইস্ট লাইভ' (Northeast Live) অভিযুক্তদের সঠিকভাবেই অসমের ভাঙা বাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, ওই এক্স ব্যবহারকারী প্রতিবেদনটি কেটে একটি মনগড়া ক্যাপশন যুক্ত করেন।
তা ছাড়া, ওই পোস্টে তৃতীয় অভিযুক্তের নাম ‘রিঙ্কু দাস’-এর পরিবর্তে ‘রিঙ্কু আলী’ বানিয়ে দেওয়া হয়, যাতে এই অপরাধের পেছনের সব অপরাধীই বিদেশি মুসলিম— এমন একটি ভুয়ো ন্যারেটিভ বা বয়ান তৈরি করা যায়।
সুতরাং, এই দাবিটি পুরোপুরি মিথ্যা। পোস্টটিতে অসমের তিন বাসিন্দাকে বানিয়ে বাংলাদেশি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং একজন অভিযুক্তের নাম বিকৃত করা হয়েছে, যাতে একটি স্থানীয় অপরাধকে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের ঘটনা হিসেবে দেখানো যায়। এই তথ্য সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ।






