রাশিয়ার চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় যুবরাজ শামীমের ‘অতল’

যুবরাজ শামীমের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অতল’ রাশিয়ার ওরেনবুর্গে অনুষ্ঠেয় ১৯তম ‘ইস্ট অ্যান্ড ওয়েস্ট: ক্ল্যাসিকস অ্যান্ড অ্যাভান্ট-গার্ড ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর মূল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে। উৎসবটি সংক্ষেপে ওরেনবুর্গ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব নামেও পরিচিত।
উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচক কমিটির প্রশংসা অর্জনের পর ‘অতল’কে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। উৎসবে চলচ্চিত্রটির দুটি প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি হবে প্রতিযোগিতা বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী। ‘অতল’ পুরস্কার অর্জন করলে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী চলচ্চিত্র হিসেবে দ্বিতীয়বার প্রদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
শুধু প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নেওয়াই নয়, উৎসব কর্তৃপক্ষ যুবরাজ শামীমকে দুটি মাস্টারক্লাস পরিচালনার জন্যও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। উৎসব চলাকালে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণ, স্বল্প সম্পদে চলচ্চিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা এবং নিজের চলচ্চিত্রভাষা নিয়ে দুটি মাস্টারক্লাস পরিচালনা করবেন তিনি।
‘অতল’-এর আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে। ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার হয়। সেখানে ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’ প্রতিযোগিতা বিভাগে প্রদর্শিত হওয়ার পাশাপাশি নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড-এর জন্যও প্রতিযোগিতা করে চলচ্চিত্রটি। মস্কোর পর এবার আরও একটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নিল ‘অতল’।
এর আগে যুবরাজ শামীমের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আদিম’ ২০২২ সালে ৪৪তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নেয়। সে আসরে ‘আদিম’ অর্জন করে স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড এবং নেটপ্যাক জুরি অ্যাওয়ার্ড।
নতুন এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে যুবরাজ শামীম বলেছেন, ‘অতল’ আসলে প্রচলিত চলচ্চিত্রের মতো কোনো চলচ্চিত্র না। কেননা এই চলচ্চিত্রটি দর্শক কিংবা চলচ্চিত্র উৎসব কাউকেই সেই অর্থে তুষ্ট করে না। এমন পরিস্থিতিতে যখন কোনো চলচ্চিত্র উৎসব ছবিটি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে, তখন ভেতরে নিজের ফিল্ম ল্যাঙ্গুয়েজ খুঁজে পাওয়ার তাড়না আরও প্রাণ পায়।
মাস্টারক্লাস পরিচালনার সুযোগ নিয়েও আনন্দিত এই নির্মাতা। তার ভাষায়, ‘এবার আবার মাস্টারক্লাস নিতে হবে! এটা ভেবে আরও বেশি আনন্দ পাচ্ছি। দেশের বাইরে তো দূরের কথা, দেশের মধ্যেই মাস্টারক্লাস নেওয়ার চিন্তাই করিনি কখনও। সেখানে এমন একটা উৎসবে মাস্টারক্লাস নেব, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম এবং নিজের ফিল্ম ফিলোসফি নিয়ে ফিল্ম স্টুডেন্টদের সঙ্গে কথা বলব—এমনটা ভেবেই তো আনন্দ পাচ্ছি।’
‘অতল’-এর নির্মাণপ্রক্রিয়াও ছিল স্বতন্ত্র। যুবরাজ শামীম বলেন, ‘অতল’ মূলত আমাদের দুজনের যাত্রা। আমি এবং নাঈম তুষার একটা ক্যামেরা নিয়ে স্কুটারে করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। আমাদের ইমোশনের সঙ্গে কানেক্ট করে এমন লোকেশনে আমরা আমাদের ভেতরের অনুভূতিটা ভিজ্যুয়াল করার ট্রাই করেছি। সেই জায়গা থেকেই ‘অতল’কে ভিজ্যুয়াল পেইন্টিং ভেবে বেশি আনন্দ পাই।
চলচ্চিত্রকে নিজের কাছে একটি আর্টফর্ম হিসেবে দেখেন যুবরাজ। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র আমার কাছে একটা আর্টফর্ম। চলচ্চিত্রকে আমি কবিতা লেখার মতো করে দেখি। একজন কবির কাছে খাতা-কলম থাকলেই তো তিনি তাঁর অনুভূতি লিখতে পারেন। আর আমার হাতে আছে ক্যামেরা, যা ছবি বানানোর জন্য যথেষ্ট। বাজেট, তারকা কিংবা আয়োজনের চেয়ে নির্মাণের শিল্পপ্রক্রিয়াকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।
দরবার শরীফের ব্যানারে নির্মিত ‘অতল’-এর চিত্রনাট্য, পরিচালনা, প্রযোজনা ও সম্পাদনা করেছেন যুবরাজ শামীম। চলচ্চিত্রটির সিনেমাটোগ্রাফি ও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাঈম তুষার। শব্দগ্রহণ করেছেন রিপন নাথ, কালার করেছেন আব্দুল্লাহ রাকিব এবং পোস্টার ডিজাইন করেছেন মেঘদল ব্যান্ডের শিবুকুমার শীল।
আগামী ২১ থেকে ২৭ আগস্ট রাশিয়ার ঐতিহাসিক শহর ওরেনবুর্গে অনুষ্ঠিত হবে উৎসবটির ১৯তম আসর। উৎসবে অংশ নিতে ১৯ আগস্ট রাশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন যুবরাজ শামীম।






