টলিপাড়ায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

সংগৃহীত ছবি
অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল টলিপাড়া। সহকর্মীর অকাল প্রয়াণ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাবের অভিযোগে আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত সিনেমা ও সিরিয়ালের শুটিং বন্ধ রাখার ডাক দিয়েছে আর্টিস্ট ফোরাম ও টেকনিশিয়ানস ফেডারেশন।
গত শনিবার রাহুলের মৃত্যুর পর থেকেই টলিপাড়ায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। শিল্পীদের দাবি, শুটিং সেটে তাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। এই নিরাপত্তার অভাব দূর করতে এবং রাহুলের মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চাইতেই একজোট হয়েছেন ৪ হাজার শিল্পী ও ৭ হাজার কলাকুশলী।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকে স্টুডিও পাড়ায় কোনো লাইট-ক্যামেরা চলবে না। টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে জমায়েত হবেন সব শিল্পী ও পরিচালক।
আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে রিজেন্ট পার্ক থানায় এবং রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে ওড়িশার তালসারি থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিটি শুটিং সেটে বাধ্যতামূলকভাবে অ্যাম্বুল্যান্স রাখতে হবে। এ ছাড়া পাহাড়, নদী বা সমুদ্রে শুটিংয়ের সময় জীবনের ঝুঁকি কমাতে কড়া নিয়মাবলি চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘শিল্পী হোক বা কলাকুশলী কাজের জায়গায় প্রত্যেকের সুরক্ষা দরকার। রাহুল যেভাবে চলে গেল, তাতে আমরা সবাই খুব ভীত। নিরাপত্তা এখন ঐচ্ছিক নয়, বাধ্যতামূলক করতে হবে।’
অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত জানান ‘রাহুলের মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আমরা কতটা অনিরাপদ। ও আমাদের একজোট করে দিয়ে গিয়েছে। এই লড়াই আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব।’
পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘দুর্ঘটনা যেকোনো সময় হতে পারে, কিন্তু শিল্পীর মর্যাদা এবং তার পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখার মতো নিয়মাবলি আমাদের থাকতেই হবে।’
টানা শুটিং বন্ধ থাকলে বিপাকে পড়তে পারে বাংলা সিরিয়ালগুলো। সাধারণত সিরিয়ালের খুব বেশি পর্ব আগে থেকে শুট করা থাকে না । ফলে শুটিং বন্ধ থাকলে দর্শকদের প্রিয় সিরিয়ালের নতুন পর্ব টেলিকাস্ট হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
টলিপাড়ার ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন ঐক্য। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কেবল শোক নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির খোলনলচে বদলে দেওয়ার এক বড় আন্দোলনে রূপ নিল। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টেকনিশিয়ানস স্টুডিওর জমায়েতের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বাংলা।



