‘শঙ্কামুক্ত’ শিল্পী শেখ সাহেদ আলী

রোকযানা গানের শিল্পী শেখ সাহেদ আলী। ছবি: সংগৃহীত
একসময়ের আলোচিত ‘রোকযানা’ গানের শিল্পী শেখ সাহেদ আলী এখন শঙ্কামুক্ত। কিছুটা উন্নতি হয়েছে শারীরিক অবস্থার। স্থানান্তর করা হচ্ছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে কেবিনে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন শিল্পীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এরশাদুল হক টিংকু।
এরশাদুল হকের ভাষ্য, শেখ সাহেদ আলী গত চার বছর ধরে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিচ্ছেন। সম্প্রতি তার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি হেপাটাইটিস সি শনাক্ত হয়। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃদু স্ট্রোক হয়। এতে শরীরের ডান পাশ কিছুটা অবশ হয়ে যায় এবং কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
তিনি আরও জানান, শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে গত ৩১ অক্টোবর তাকে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে প্রথমে আইসিইউ এবং পরে উচ্চনির্ভর পরিচর্যা কেন্দ্রে (এইচডিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানান, নিয়মিত ডায়ালাইসিস ও অন্যান্য চিকিৎসার পর তার শরীরে পানি ও সোডিয়ামের মাত্রা এখন নিয়ন্ত্রণে আসছে। কেবিনে নেওয়ার পর তার হাতের ফিস্টুলায় রক্ত জমাট বাঁধার চিকিৎসা করতে হবে। এ ছাড়া নালির সমস্যার কারণে একটি ছোট অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
টিংকু জানান, গত ১১ বছরে তৈরি করা ২৪টি নতুন গান প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সাহেদ আলী। জি-সিরিজের ব্যানারে গানগুলো প্রকাশের পাশাপাশি সংগ্রহে রাখার জন্য চারটি করে সিডি, ক্যাসেট ও ভিনাইল রেকর্ড প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। ৬ নভেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথা ছিল। তবে অসুস্থতার কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে।
সাহেদ নব্বইয়ের দশক থেকে গান করছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘গাছ’ ব্যান্ড। সংগীতাঙ্গনে ‘রোকযানা’ সাহেদ নামেও পরিচিত। ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম অ্যালবাম ‘প্রভু’। এরপর আরও পাঁচটি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন তিনি।




