বিটলসকে হারিয়ে গ্র্যামি জয়ী ডেভিড ক্লেটন-থমাস আর নেই

ডেভিড ক্লেটন-থমাস
বিশ্ব সংগীতের এক সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল। বিদায় নিলেন ১৯৬০-এর দশকের সাড়া জাগানো জ্যাজ-রক ব্যান্ড ‘ব্লাড, সোয়েট অ্যান্ড টিয়ার্স’-এর কিংবদন্তি ক্যানাডিয়ান ফ্রন্টম্যান, গায়ক ও গীতিকার ডেভিড ক্লেটন-থমাস।
গত বুধবার টরন্টোর একটি হাসপাতালে ৮৪ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গ্র্যামি বিজয়ী তারকা। তার মৃত্যুর খবরে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সংগীতপ্রেমী ও রক ঘরানার ভক্তদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া।
ডেভিড ক্লেটন-থমাসের জীবনের গল্প কোনো সিনেমার চেয়ে কম ছিল না। কিশোর বয়সে ঘরছাড়া হয়ে টরন্টোর রাস্তায় রাস্তায় দিন কাটিয়েছেন তিনি। জড়িয়ে পড়েছিলেন অপরাধেও, যার ফলে জীবনের একটি বড় সময় কেটেছে বিভিন্ন কারাগার ও কিশোর সংশোধনাগারে।
তবে নিয়তি তাকে অন্ধকার গলিতে হারিয়ে যেতে দেয়নি। জেলের চার দেয়ালের মাঝেই তিনি নিজে নিজে গিটার বাজানো শেখেন এবং বন্দিদের সামনে গান গেয়ে নিজের ভেতরের সংগীতের জাদুকে আবিষ্কার করেন। এরপর ১৯৬৮ সালে ‘ব্লাড, সোয়েট অ্যান্ড টিয়ার্স’ ব্যান্ডে যোগ দেওয়ার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
১৯৬৮ সালে ডেভিড ক্লেটন-থমাসের জাদুকরী কণ্ঠে ব্যান্ডের স্বনামধন্য অ্যালবামটি মুক্তি পেয়েই বিশ্বজুড়ে ইতিহাস তৈরি করে। বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড ‘দ্য বিটলস’-এর কালজয়ী অ্যালবাম ‘অ্যাবে রোড’-কে পেছনে ফেলে সেই বছর ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ সহ একাই ৫টি গ্র্যামি পুরস্কার লুফে নেয় ক্লেটন-থমাসের এই অ্যালবাম!
দুনিয়াজুড়ে এক কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হওয়া এই অ্যালবামটি টানা সাত সপ্তাহ বিলবোর্ড চার্টের এক নম্বরে ছিল। ক্যারিয়ারে ৪০ মিলিয়নেরও বেশি রেকর্ড বিক্রি করা এই রকারের ‘স্পিনিং হুইল’ ও ‘ইউ’ভ মেড মি সো ভেরি হ্যাপি’ গানগুলো আজও সংগীতের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে।
১৯৭০ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধ চলাকালীন এক রাজনৈতিক বিতর্কেও জড়িয়ে পড়েছিল তার ব্যান্ড। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশে সমাজতান্ত্রিক পূর্ব ইউরোপে সফরকারী প্রথম রক ব্যান্ড ছিল তারা।
২০২৩ সালের একটি ডকুমেন্টারিতে প্রকাশ পায় যে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন ক্লেটন-থমাসকে ব্ল্যাকমেইল করেছিল—হয় এই ট্যুর করতে হবে, নয়তো আমেরিকা থেকে বিতাড়িত হতে হবে। এই সফরের কারণে সে সময় যুদ্ধবিরোধী সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল ব্যান্ডটিকে।
পরবর্তীতে একটানা ট্যুরের ক্লান্তির কারণে ১৯৭২ সালে ব্যান্ড ছাড়লেও আশির দশকে আবারও নিজের চেনা ঠিকানায় ফিরে আসেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি দুই কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।





