মা রিহ্যাবে, ছেলেরা মেতে আছে ফুর্তিতে

ব্রিটনি স্পিয়ার্স
খবর চাউর হয়েছে যে, ব্রিটনি স্পিয়ার্স যখন রিহ্যাবে নিজের চিকিৎসা নিচ্ছেন, তখন তার ক্যালিফোর্নিয়ার ‘থাউজেন্ড ওকস’ নামের বিশাল প্রাসাদে রাজকীয়ভাবে থাকতে শুরু করেছেন তার দুই ছেলে ২০ বছর বয়সী শন প্রেস্টন এবং ১৯ বছরের জেইডেন জেমস। সাংবাদিক রব শুটার জানিয়েছেন, ব্রিটনি রিহ্যাবে যাওয়ার পরপরই ছেলেরা সেখানে এসে আস্তানা গেড়েছেন। কোনো ভাড়া নেই, কোনো চিন্তা নেই। মায়ের দামি দামি গাড়ি চালানো, আর সুইমিংপুলে আয়েশ করা, সবই চলছে পুরোদমে। এই খবর শুনে নেটিজেনদের মধ্যে রীতিমতো ওঠে সমালোচনার ঝড়। অনেকে বলছেন, ‘মা বিপদে আর ছেলেরা মায়ের সম্পত্তিতে ফুর্তি করছে!’
ব্রিটনির এই রিহ্যাবে যাওয়ার পেছনে আছে এক রুদ্ধশ্বাস কাণ্ড। গত ৪ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ার ভেনচুরায় নিজের বিএমডব্লিউ গাড়ি নিয়ে বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিলেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে টহল পুলিশের নজরে পড়তেই তারা গাড়িটি থামান। পুলিশ জানায়, ব্রিটনিকে তখন অস্বাভাবিক দেখাচ্ছিল এবং তার কথাবার্তায় অসংলগ্ন ভাব ছিল। ঘটনাস্থলেই মাদক পরীক্ষার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনার পর তার কাছের মানুষেরা নড়েচড়ে বসেন এবং বুঝতে পারেন, ব্রিটনিকে এখনই সুপথে আনা দরকার।
ঘটনার পর ব্রিটনির প্রতিনিধিরা বিবিসিতে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ব্রিটনির এই আচরণ একদমই ‘ক্ষমার অযোগ্য’। তবে তারা আশাবাদী যে, এবার রিহ্যাবে যাওয়ার মাধ্যমে ব্রিটনির জীবনে অনেকদিন ধরে থমকে থাকা পরিবর্তনগুলো আসবে। তারা আরও বলেছেন, ‘ব্রিটনি এবার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। আশা করি, এই কঠিন সময়ে তিনি সবার সহযোগিতা পাবেন।’
শোনা যাচ্ছে, ব্রিটনিকে রিহ্যাবে পাঠানোর পেছনে তার প্রাক্তন স্বামী কেভিন ফেডারলাইন এবং দুই ছেলের বড় ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ছোট ছেলে জেইডেন মাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে তার চিকিৎসা দরকার। যদিও একসময় ছেলেদের সঙ্গে ব্রিটনির সম্পর্ক বেশ খারাপ ছিল, কিন্তু ইদানীং সেই বরফ একটু একটু করে গলতে শুরু করেছিল। তাই অনেকে মনে করছেন, ছেলেরা বাড়িতে পাহারা দিচ্ছেন নাকি স্রেফ সুযোগ বুঝে আয়েশ করছেন সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
অনলাইনে ব্রিটনিকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এক পক্ষ বলছেন, মা বাসায় নেই বলে ছেলেরা বাড়ি দেখাশোনা করছেন, এতে দোষের কিছু নেই। অন্যপক্ষ বলছেন, মা যখন জীবন নিয়ে টানাটানি করছেন, তখন ছেলেদের এমন জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন দেখতে মোটেও ভালো লাগছে না। যেন মা ছাড়াই সংসার নিজের গতিতে চলছে, যা ব্রিটনির জন্য বেশ অপমানজনক।
‘বেবি ওয়ান মোর টাইম’ বা ‘টক্সিক’ এর মতো কালজয়ী গান দিয়ে সারা দুনিয়া কাঁপানো ব্রিটনির জীবনটা বরাবরই ট্র্যাজেডিতে ভরা। ২০২১ সালে বাবার কড়া শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। তখন মনে হয়েছিল ব্রিটনি হয়তো এবার শান্তিতে থাকবেন। কিন্তু সেই ২০২১ সালের মুক্তি আর ২০২৬ সালের এই রিহ্যাব মাঝখানের সময়টায় ব্রিটনি যে আবারো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ভক্তরা এখন কেবল প্রার্থনা করছেন, পপ সম্রাজ্ঞী যেন আবারো সুস্থ হয়ে মঞ্চে ফিরে আসেন।



