উগ্রবাদের উত্থান আমরা কেউ আশা করিনি

আজমেরী হক বাঁধন
নতুন সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এরই মধ্যে তার আরেক সিনেমা ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনীত হয়েছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মীর রাকিব হাসান
‘গুলশানের চামেলি’ সিনেমাটি করতে রাজি হলেন কেন?
গল্পটা খুবই ইন্টারেস্টিং। মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীর চরিত্রে অভিনয় করছি। পরিচালক ইকবাল ভাই আমাকে বলেছিলেন, ‘ম্যাডাম, আপনিই আমাদের সিনেমার হিরো।’ নির্মাতার সম্মান সত্যিই ভালো লেগেছে। শুটিং শুরু হবে ডিসেম্বরে। কলকাতার মধুমিতা, রোজিনা আপা, আমিন খান ভাই, আশীষ খন্দকার ভাইও আছেন। আমি বিশ্বাস করি, ভালো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করলে নিজের কাজও আরও ভালো হয়।
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ যাচ্ছে। এ সিনেমায় আপনার চরিত্রটি কেমন?
আমার বিশ্বাস ছিল, এ সিনেমা বিশ্বের বড় কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নেবে। শুরুতে কিন্তু এ সিনেমায় আমার জন্য কোনো চরিত্র ছিল না। হঠাৎ একদিন সকালে রুবাইয়াত ফোন করে বলল, একটি দৃশ্যে আমাকে দরকার। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই। রিহার্সেলের সময় চরিত্রটি আরও বড় হয়। শেষ পর্যন্ত একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ইমপ্যাক্টফুল চরিত্রে অভিনয় করেছি। সিনেমার প্রধান চরিত্র জাইনীন চৌধুরী করিম। আমি, সুনেরা, শিমু-কেউ ভাবিনি, কার চরিত্রের ব্যাপ্তি কতটুকু। আমরা শুধু একটি ভালো সিনেমার অংশ হয়েছি। আমরা এর মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন করেছি। সবাই মিলে ভেনিসে যাচ্ছি।
কোন ধরনের গল্প আপনাকে আকৃষ্ট করে?
আমি সব ধরনের কাজ করতে চাই। ‘এশা মার্ডার’ও করব, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ও করব, আবার ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ও করব। অভিনয়ই আমার পেশা। এ কাজ করেই আমাকে সংসার চালাতে হয়। আমার মেয়ের দায়িত্ব নিতে হয়।
সিনেমার বাইরে সময় কীভাবে কাটে?
একজন শিল্পীর নিজের ভেতরটাকে সমৃদ্ধ করতে হলে নিয়মিত পড়াশোনা আর সিনেমা দেখা জরুরি। ভবিষ্যতে স্ক্রিনপ্লে লিখতে চাই। মাথায় কিছু গল্প আছে। নিজের গল্প নিয়ে ভবিষ্যতে নির্মাণে আসব। সমাজকে আমি যেভাবে দেখি, যেভাবে বুঝি, সেগুলোই মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাই।
জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পর ফিরে তাকালে কী দেখেন?
আমি জানি না, সবাই কী বিশ্বাস নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। প্রত্যেকের বিশ্বাস হয়তো আলাদা ছিল; কিন্তু একটা জায়গায় সবাই এক ছিলেন। সবাই অনুভব করছিলেন যে দেশে একটি স্বৈরাচারী সরকারের আগ্রাসন চলছে। শেষদিকে সেই আগ্রাসন এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মানুষ মুক্তি চাইতে শুরু করে। সেই মুক্তিটা আমরা পেয়েছি।
তাহলে কি আপনার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে?
না। আমার স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ; কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের হতাশ করেছে। অনেক জায়গায় তারা ব্যর্থ হয়েছে। তাদের সময়েই মব কালচার তৈরি হয়েছে। নারীরা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে। বাউলদের মাজার ভাঙা হয়েছে। উগ্রবাদের উত্থান আমরা স্পষ্টভাবে দেখেছি। এসব আমরা কেউই আশা করিনি।
রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে ইচ্ছা হয়?
একসময় রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা ছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারও করেছি। তখন মনে হয়েছিল, রাজনীতি করেই হয়তো মানুষের জন্য আরও বেশি কিছু করা যাবে; কিন্তু পরে আমার উপলব্ধি বদলেছে। তারানা হালিমের মতো মানুষকে আমি খুব কাছ থেকে কষ্ট পেতে দেখেছি। তখন বুঝেছি, কোনো দলে থাকলে নিজের স্বাধীনতা কমে যায়। এখন আমি স্বাধীনভাবেই কথা বলতে চাই।
অনেকে বলেন, আন্দোলনের পর আপনি অনেক কিছু পেয়েছেন...
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হোক, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিংবা বর্তমান সরকার— সব সময়ই আমাকে যথেষ্ট সম্মান দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দায়িত্ব ও পদেও আমাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু আমি সেগুলো গ্রহণ করিনি। আর যে বলা হয় আমি ২০০ কোটি টাকা কিংবা ২০০ কোটি ডলার পেয়েছি— সেই টাকা কোথায় আছে, কেউ যদি আমাকে দেখিয়ে দিত, তাহলে খুব ভালো হতো। আমার তো এত টাকা লাগবে না। পাঁচ কোটি টাকা পেলেই আমি খুশি। আমি খুবই গরিব মানুষ।






